• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 13 June, 2026

১৫ বছরের শাসনেও মেলেনি স্থায়ী সমাধান, বর্ষার আগে জল জমা রুখতে অস্থায়ী সমাধানের পথে প্রশাসন

যাদবপুর, টালিগঞ্জ, বেহালা পূর্ব, বেহালা পশ্চিম, মেটিয়াবুরুজ ও কসবা বিধানসভা এলাকা নিয়ে বৈঠক হয় এদিন

১৫ বছরের তৃণমূল শাসনে শহরের জল নিকাশী নিয়ে নেওয়া হয়নি সদর্থক পদক্ষেপ। তাই আপাতত এবছরের বর্ষায় অস্থায়ী সমাধানের পথে অগ্রসর হচ্ছে কলকাতা পুরসভা। দক্ষিণ কলকাতার বিধানসভা এলাকার জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে কলকাতা পুরসভার তরফে শুক্রবার বিভিন্ন দপ্তরকে নিয়ে বৈঠকে বসা হয়।

যাদবপুর, টালিগঞ্জ, বেহালা পূর্ব, বেহালা পশ্চিম, মেটিয়াবুরুজ ও কসবা বিধানসভা এলাকা নিয়ে বৈঠক হয় এদিন। আর তাতেই উঠে আসে বিধানসভাভিত্তিক সমস্যাগুলির দীর্ঘ তালিকা।আসন্ন বর্ষাকে সামনে রেখে বেহালার শরৎ সদনে আয়োজিত এই প্রাক-বর্ষা প্রস্তুতি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখার্জি, টালিগঞ্জের বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী, বেহালা পূর্বের বিধায়ক শঙ্কর সিকদার, মেটিয়াবুরুজের বিধায়ক আব্দুল খালেক মোল্লা-সহ কলকাতা পুরসভা, সেচ দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার আধিকারিকরা।

মূল লক্ষ্য ছিল বর্ষার আগে জল জমা, নিকাশি ব্যবস্থা এবং খাল সংস্কার সংক্রান্ত সমস্যাগুলি চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের রূপরেখা তৈরি করা।বৈঠক শেষে যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখার্জি জানান, গড়ফা-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় জল জমার আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এলাকায় একটি পাম্পিং স্টেশনের কাজ চললেও তা এখনও সম্পূর্ণ হয়নি।

ফলে চলতি বর্ষায় স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলেই মনে করা হচ্ছে। সেই কারণে আপাতত ছোট ও বড় পাম্প বসিয়ে জল দ্রুত খালে ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে শুধু পাম্প বসালেই হবে না, অতীতে বহু ক্ষেত্রে প্রয়োজনের সময়ে অপারেটরদের খুঁজে পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ ওঠে। সেই বিষয়টি পুর আধিকারিকদের নজরে আনেন বিধায়ক।

পুরসভার তরফে সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের যোগাযোগের নম্বর ইতিমধ্যেই বিধায়কদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি এবছর বর্ষার আগে যাদবপুর এলাকার খালগুলির আংশিক সংস্কারের দাবিও সেচ দপ্তরের সামনে তুলে ধরেন তিনি।বেহালা পূর্বের বিধায়ক শঙ্কর সিকদার বৈঠক শেষে বলেন, বহু বছর ধরে মানুষের সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়াতেই আজ এই ধরনের সমন্বয় বৈঠকের প্রয়োজন পড়েছে।

তাঁর কথায়, বেহালা পূর্বে জল জমার সমস্যার তালিকা এতটাই দীর্ঘ যে তা সম্পূর্ণভাবে তুলে ধরাই কঠিন। প্রতি বর্ষাতেই বেহালার বিস্তীর্ণ এলাকা কার্যত জলমগ্ন হয়ে পড়ে। তাই কোথায় নতুন পাম্পিং স্টেশন প্রয়োজন, কোন খাল সংস্কার জরুরি এবং কোন দপ্তরের কী দায়িত্ব, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

অতীতে পুরসভা, সেচ দপ্তর, কেএমসি-শার্প ও অন্যান্য সংস্থার মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে একাধিকবার মতভেদ দেখা গিয়েছিল। তবে এদিনের বৈঠকে সংশ্লিষ্ট সমস্ত দপ্তরকে এক ছাতার তলায় এনে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমস্যার মোকাবিলার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, মেটিয়াবুরুজের বিধায়ক আব্দুল খালেক মোল্লা জানান, তাঁর বিধানসভা এলাকার অন্তত ছয়টি ওয়ার্ডে বর্ষাকালে ভয়াবহ জল জমার সমস্যা দেখা দেয়। এদিন তিনি সেই সমস্ত এলাকার সমস্যা পুরসভার আধিকারিকদের সামনে তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, আধিকারিকরা বিষয়গুলি গুরুত্ব দিয়ে শুনেছেন এবং বর্ষার সময় যাতে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে না পড়তে হয়, তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।