• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 24 June, 2026

ভরদুপুরে তারাতলায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা, ধ্বংসস্তূপের তলায় আটকে বহু শ্রমিক, মৃত ৩

বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী তাদেরকে উদ্ধারের চেষ্টা করছে।

তারাতলা থানা এলাকায় হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল একটি নির্মীয়মান গোডাউনের বিশাল লোহার শেড ও ছাদ। বুধবার তারাতলার ব্রেসব্রিজের কাছে ট্রান্সপোর্ট ডিপো সংলগ্ন এলাকায় বিপর্যয় ঘটে। জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন। ভেঙে পড়া লোহার কাঠামো এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বেশ কিছু শ্রমিক আটকে রয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের তলা থেকে ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। আটজনকে উদ্ধার করে এসএসকেএমের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে নিয়ে আসা হয়েছে। তাঁর মধ্য়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি পাঁচজন বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন।

খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। আনা হয়েছে জেসিবি ও গ্যাস কাটার। লোহার ভারী বিম এবং শেডের অংশ কেটে আটকে থাকা মানুষদের বের করার চেষ্টা চলছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। পুলিশ সূত্রের খবর, মৃতদের মধ্য়ে রয়েছেন দুর্বাসা মোল্লাম(৫৬), মানিকচাঁদ কুমার(২২) ও শহিদ কুমার(২৬)।

সূত্রের খবর, ওড়িশার এক ব্যবসায়ী বাংলার এক ব্যবসায়ীকে এই জমিটা লিজে দিয়েছিলেন। প্রায় এক বছর এখানে গোডাউন বন্ধ রাখা হয়েছিল। সমপ্রতি সেখানে চায়ের একটি গোডাউন তৈরির কাজ শুরু হয়। বুধবারও অন্যান্য দিনের মতোই সেখানে শ্রমিকরা কাজ করছিলেন। আচমকাই বিকট শব্দ করে নির্মীয়মান সেই গোডাউনের উপরের বিশাল লোহার ভারী শেড এবং ছাদের একাংশ ভেঙে পড়ে। সেই সময়ে সেখানে ৫০-৬০ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। ছাদটি কর্মরত শ্রমিকদের উপরে আছড়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা ধ্বংসস্তূপের চেহারা নেয়।

ধ্বংসস্তূপ থেকে শ্রমিকদের উদ্ধার করে পুলিশ স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করছে। এই ঘটনার পর স্বভাবতই ওই গোডাউন নির্মাণের কাজের গুণমান নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। লোহার শেড বসানোর ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, নাকি ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি ওজন চাপানো হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর দুর্ঘটনার পরে নবান্নের নির্দেশে কন্ট্রোল রুম চালু করেছে। কন্ট্রোল রুমের নম্বরগুলি হল ৮৬৯৭৯৮১০৭০, ০৩৩-২২১৪৩৫২৬, ০৩৩-২২৫৩৫১৮৫ । দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন কলকাতা পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে। বিজেপি নেতা রাকেশ সিংহ, পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ও রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। পুরো ঘটনার উপরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নজর রাখছেন বলে জানা গিয়েছে।