তারাতলা থানা এলাকায় হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল একটি নির্মীয়মান গোডাউনের বিশাল লোহার শেড ও ছাদ। বুধবার তারাতলার ব্রেসব্রিজের কাছে ট্রান্সপোর্ট ডিপো সংলগ্ন এলাকায় বিপর্যয় ঘটে। জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন। ভেঙে পড়া লোহার কাঠামো এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বেশ কিছু শ্রমিক আটকে রয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের তলা থেকে ২৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ১৮ জনকে উদ্ধার করে এসএসকেএমের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে নিয়ে আসা হয়েছে। বাকি পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। আনা হয়েছে জেসিবি ও গ্যাস কাটার। লোহার ভারী বিম এবং শেডের অংশ কেটে আটকে থাকা মানুষদের বের করার চেষ্টা চলছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। পুলিশ সূত্রের খবর, দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন দুর্বাসা মোল্লাম(৫৬), মানিকচাঁদ কুমার(২২) ও শহিদ কুমার(২৬)। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন কৃষ্ণা চৌধুরী(৩০) ও রোহিত চৌধুরী(৪০)। অন্য একজনের নাম জানা যায়নি।
সূত্রের খবর, ওড়িশার এক ব্যবসায়ী বাংলার এক ব্যবসায়ীকে এই জমিটা লিজে দিয়েছিলেন। প্রায় এক বছর এখানে গোডাউন বন্ধ রাখা হয়েছিল। সমপ্রতি সেখানে চায়ের একটি গোডাউন তৈরির কাজ শুরু হয়। বুধবারও অন্যান্য দিনের মতোই সেখানে শ্রমিকরা কাজ করছিলেন। আচমকাই বিকট শব্দ করে নির্মীয়মান সেই গোডাউনের উপরের বিশাল লোহার ভারী শেড এবং ছাদের একাংশ ভেঙে পড়ে। সেই সময়ে সেখানে ৫০-৬০ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। ছাদটি কর্মরত শ্রমিকদের উপরে আছড়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা ধ্বংসস্তূপের চেহারা নেয়।
ধ্বংসস্তূপ থেকে শ্রমিকদের উদ্ধার করে পুলিশ স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করছে। এই ঘটনার পর স্বভাবতই ওই গোডাউন নির্মাণের কাজের গুণমান নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। লোহার শেড বসানোর ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, নাকি ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি ওজন চাপানো হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর দুর্ঘটনার পরে নবান্নের নির্দেশে কন্ট্রোল রুম চালু করেছে। কন্ট্রোল রুমের নম্বরগুলি হল 1070, 8697981070, 033 22143526, 033 22535185। দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন কলকাতা পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে। বিজেপি নেতা রাকেশ সিংহ, পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ও রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ।
তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে পড়ার ঘটনায় উদ্ধারকাজ খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সেখানে উপস্থিত কর্তব্যরত পুলিশকর্তা এবং চিকিৎসকদের সঙ্গেও তিনি কথা বলেছেন বলে জানা গিয়েছে।




