• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 28 June, 2026

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সঞ্জীব সান্যালের সঙ্গে বৈঠকে স্বপন-তাপস, শিল্পেই জোর

নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সঞ্জীব সান্যালের সঙ্গে বৈঠকে স্বপন-তাপস, শিল্পেই জোর

বাংলায় শিল্প ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তথা অর্থনীতিবিদ সঞ্জীব সান্যালের সঙ্গে বৈঠক করলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এবং শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। রবিবার দক্ষিণ কলকাতার একটি রেস্তোরাঁয় মধ্যাহ্নভোজে তাঁদের বৈঠক হয়। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, আলোচনার মূল বিষয় ছিল শিল্প, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা।

নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই বার্জার পেইন্টস ৬০০ কোটি টাকা, পিয়ারলেস গোষ্ঠী এক হাজার কোটিরও বেশি এবং আমুল প্রায় ৬৫০ কোটি টাকার বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করেছে। সরকারের আশা, এই সব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত জানান, ব্যবসার পথে চাঁদাবাজি, সিন্ডিকেট এবং অযাচিত হস্তক্ষেপ বড় বাধা। সেই পরিস্থিতি বদলাতে সরকার আইন আনতে চলেছে। শিল্পপতিদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাই লক্ষ্য।

শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ের বক্তব্য, সরকারি চাকরির পাশাপাশি বেসরকারি শিল্পে কর্মসংস্থান বাড়ানো এখন সবচেয়ে জরুরি। তাঁর কথায়, বাংলার যুবসমাজের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই বড় শিল্প ও বিনিয়োগ টানতে সরকার ধারাবাহিক উদ্যোগ নিচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দাবি, অতীতে বহু বিনিয়োগের ঘোষণা হলেও তার অনেকটাই বাস্তবায়িত হয়নি। নতুন প্রশাসন সেই পরিস্থিতি বদলে পশ্চিমবঙ্গকে ফের শিল্পবান্ধব রাজ্য হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।

যদিও সঞ্জীব সান্যালের সঙ্গে বৈঠকে ঠিক কী আলোচনা হয়েছে, তা নিয়ে সরকারিভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে শিল্পমহলের একাংশের ধারণা, নতুন বিনিয়োগ, শিল্পবান্ধব পরিবেশ এবং অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়েই মূলত মতবিনিময় হয়েছে। আর পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক পরিকাঠামো ও শিল্পায়ন নিয়ে কথা হয়েছে। রাজ্যে নতুন বিনিয়োগ টানতে এবং ‘বিকশিত বাংলা’ গড়ার লক্ষ্যে রাজ্যকে কীভাবে শক্তিশালী করা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। রাজ্যের শিল্পমহলের দাবি মেনে সরকার খুব শীঘ্রই একটি নতুন ‘ইনসেনটিভ পলিসি’ আনতে চলেছে বলে সূত্রের খবর। শিল্পায়নের স্বার্থে রাজ্য সরকার আর জমি অধিগ্রহণের ঊর্ধ্বসীমা আটকে রাখবে না। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য জমি জট কাটাতে ‘ল্যান্ড পুলিং’ নীতি গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে।