তারকেশ্বর সফরে গিয়ে প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথাও তুলে ধরলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার তারকেশ্বরে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, এই সফরের মূল উদ্দেশ্য প্রশাসনিক পর্যালোচনা হলেও, ভগবান মহাদেবের দর্শন না করে তিনি ফিরতে পারেন না। তাঁর কথায়, ‘বাবা মহাদেব বাংলার মানুষের হৃদয়ের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছেন। তাই একজন ভক্ত হিসেবে তাঁর আশীর্বাদ নেওয়া আমার কর্তব্য।’
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তারকেশ্বরের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সরকার একাধিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। মন্দির চত্বর ও সংলগ্ন এলাকার সৌন্দর্যায়নের পাশাপাশি ধর্মীয় ভাবমূর্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কিছু পরিবর্তন আনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এলাকার বর্তমান নীল-সাদা রঙের পরিবর্তে গেরুয়া রঙ ব্যবহার করা হলে তা তারকেশ্বরের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে আরও ভালোভাবে তুলে ধরবে।
শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, বর্তমান সরকার মানুষের সরকার এবং মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জানান, তারকেশ্বরকে ধর্মীয় পর্যটনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে। রাস্তা, আলো, পরিচ্ছন্নতা এবং দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সম্ভাব্য পশ্চিমবঙ্গ সফর নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফর সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রধানমন্ত্রীর দফতর (পিএমও) যথাসময়ে জানাবে। তবে এটি একটি সরকারি কর্মসূচি হবে এবং সেই লক্ষ্যে প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “আজ থেকেই আমি প্রস্তুতিমূলক বৈঠক শুরু করছি, যাতে সমস্ত ব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায়।”
তারকেশ্বরের ঐতিহাসিক গুরুত্বের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৪৬ সালের ৪ থেকে ৬ এপ্রিল তারকেশ্বরেই ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাব গ্রহণ করেছিলেন, যেখানে বাংলার ভারতভুক্ত থাকার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, স্বাধীনতা-পূর্ব ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও জানান, আগামী ২০ জুন রাজ্য প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হবে। তাঁর অবদানকে স্মরণ করে বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
সব মিলিয়ে, তারকেশ্বরের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যকে সামনে রেখে উন্নয়নের নতুন রূপরেখা তৈরির বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।




