• facebook
  • twitter
Tuesday, 19 May, 2026

পথকুকুর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কড়া বার্তা, ‘মানুষের নিরাপত্তাই অগ্রাধিকার’

আদালতের মতে, শিশু, প্রবীণ এবং সাধারণ পথচারীরা যেভাবে বারবার আক্রমণের শিকার হচ্ছেন তা উপেক্ষা করা সম্ভব নয়

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

পথকুকুর সংক্রান্ত মামলায় ফের কঠোর অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণে শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিয়েছে, জনবহুল এলাকায় মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে পথকুকুর নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ করতেই হবে। একই সঙ্গে নভেম্বরে দেওয়া আগের নির্দেশই বহাল রাখা হয়েছে। ফলে সেই রায় সংশোধনের আবেদনও খারিজ হয়ে গিয়েছে।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, যে সব এলাকায় পথকুকুরের সংখ্যা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং বারবার কামড়ের ঘটনা ঘটছে, সেখানে স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে পশু কল্যাণ আইন ও সংশ্লিষ্ট নিয়ম মেনে পদক্ষেপ করার কথাও বলা হয়েছে। খুব নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে, যেমন গুরুতর অসুস্থ বা অত্যন্ত হিংস্র কুকুরের ক্ষেত্রে ‘নিষ্কৃতিমৃত্যু’ বা ‘ইউথানেশিয়া‘-র বিষয়টিও বিবেচনায় আনা যেতে পারে বলে আদালত জানিয়েছে।

Advertisement

বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়া – তিন বিচারপতির বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট করে দিয়েছে, কুকুরের আক্রমণের আশঙ্কা ছাড়া বেঁচে থাকার অধিকারও মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপনের অধিকারের অংশ। আদালতের মতে, শিশু, প্রবীণ এবং সাধারণ পথচারীরা যেভাবে বারবার আক্রমণের শিকার হচ্ছেন তা উপেক্ষা করা সম্ভব নয়।

Advertisement

আদালত আরও জানায়, জনসাধারণের ব্যবহৃত রাস্তা, পার্ক, হাসপাতাল ও স্টেশনের মতো জায়গায় পথকুকুরের অবাধ বিচরণ এখন উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তাই এই সমস্যা শুধুমাত্র প্রাণীকল্যাণের দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, জননিরাপত্তার বিষয় হিসেবেও দেখতে হবে।

একইসঙ্গে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে শীর্ষ আদালত। পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রেই নির্বীজকরণ ও টিকাকরণ কর্মসূচি নিয়মিত বা পরিকল্পিতভাবে হয়নি। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে। আদালতের মতে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবই সমস্যাকে জটিল করেছে।

পশু অধিকার কর্মীদের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, পথকুকুরদের তাদের পরিচিত এলাকা থেকে সরালে তারা আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। তবে সেই যুক্তি মানতে রাজি হয়নি আদালত। বরং আবেদনগুলি সরাসরি খারিজ করে দিয়ে আগের নির্দেশ বহাল রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে সুপ্রিম কোর্টের এই রায় আবার স্পষ্ট করে দিয়েছে, পথকুকুর সমস্যা নিয়ে মানবিকতা ও জননিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য রেখে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

Advertisement