• facebook
  • twitter
Wednesday, 18 February, 2026

গরুপাচার মামলায় বিএসএফ জওয়ানের সাজা বহাল সুপ্রিম কোর্টে

অনৈতিকভাবে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন ভগীরথ। তবে দিল্লি হাইকোর্ট তাঁর আবেদন খারিজ করে দেন।

প্রতীকী চিত্র

ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে বেআইনি গরুপাচারে মদত দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত এক বিএসএফ সাব-ইনস্পেক্টরের বিরুদ্ধে দেওয়া শাস্তি বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানায়, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কোনও গাফিলতি হালকাভাবে নেওয়া যায় না। বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালের বেঞ্চ জানায়, ১৯৬৮ সালের বিএসএফ আইনের ৪৮(১)(সি) ধারায় শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত যথাযথ।

অভিযুক্ত ভগীরথ চৌধুরী দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফে কর্মরত ছিলেন। তিনি ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের ১৬ নম্বর গেটে পোস্ট কমান্ডার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। অভিযোগ ওঠে, তিনি গরুপাচারে সহায়তা করেছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে কিছু প্রমাণ উদ্ধার হয় এবং এক ব্যক্তি দোষ স্বীকারও করেন। যদিও পাচার হওয়া গরু উদ্ধার হয়নি। পাশাপাশি ঘটনার কোনও প্রত্যক্ষদর্শীও ছিলেন না। প্রাথমিক তদন্তের পর মামলাটি জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্টে ওঠে। বিএসএফ আইনের ৪০ ধারায় ভগীরথকে দোষী সাব্যস্ত করে ছ’মাসের কারাদণ্ড ও চাকরিচ্যুতির নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। আদালতে ভগীরথের আইনজীবী জানান, গরুপাচারের অভিযোগে যে প্রমাণ উঠে এসেছিল তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি অনৈতিকভাবে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন ভগীরথ। তবে দিল্লি হাইকোর্ট তাঁর আবেদন খারিজ করে দেন।

Advertisement

পরে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েও স্বস্তি পাননি ভগীরথ। শীর্ষ আদালত জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্টের রায়ই বহাল রাখে। আদালত জানায়, বাহিনী প্রয়োজনে একাধিক শাস্তি দিতে পারে, বরখাস্তও করতে পারে। তবে ৩৬ বছরের চাকরির কথা বিবেচনা করে তাঁকে পেনশনের জন্য আবেদন জানানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে পেনশন মিলবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

Advertisement

Advertisement