• facebook
  • twitter
Tuesday, 17 February, 2026

ডিপফেক ও অনলাইন অপব্যবহার ঠেকাতে আদালতের দ্বারস্থ রামদেব

দিল্লি হাইকোর্টে সুরক্ষার আবেদন

ছবি: এএনআই

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি ভুয়ো ছবি ও ভিডিও তথা ‘ডিপফেক’-এর অপব্যবহার ঠেকাতে আইনি সুরক্ষা চেয়ে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন যোগগুরু স্বামী রামদেব। তাঁর অভিযোগ, সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে তাঁর নামে ভুয়ো ভিডিও ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে তাঁর ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি এবং প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এই বিষয়ে দিল্লি হাইকোর্টে দায়ের করা আবেদনে স্বামী রামদেব জানিয়েছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তাঁর মুখ ও কণ্ঠস্বর নকল করে এমন কিছু ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে, যাতে তাঁকে এমন কিছু বক্তব্য দিতে দেখা যাচ্ছে, যা তিনি কখনও বলেননি। এই ধরনের ভিডিও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ণ করছে। আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংস্থা পতঞ্জলি আয়ুর্বেদের নামেও ভুয়ো প্রচার চালানো হচ্ছে। কিছু ভিডিওতে সংস্থার পণ্য সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর দাবি করা হচ্ছে, যা ক্রেতাদের ভুল পথে পরিচালিত করতে পারে।

Advertisement

স্বামী রামদেবের আইনজীবীরা আদালতে জানিয়েছেন, এই ধরনের ভুয়ো ভিডিও ও বিষয়বস্তু শুধু ব্যক্তিগত সম্মানের ক্ষতি করছে না, বরং বৃহত্তরভাবে সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তাই আদালতের কাছে আবেদন করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট অনলাইন মাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হোক, যাতে এই ধরনের ভুয়ো বিষয়বস্তু দ্রুত সরিয়ে ফেলা হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপব্যবহার রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

Advertisement

আইনজীবীদের দাবি, বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির অপব্যবহার একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনপরিচিত ব্যক্তিত্বদের লক্ষ্য করে এই ধরনের ডিপফেক তৈরি করা হলে তা সহজেই মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। জনমানসে বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হতে পারে। আদালত এই আবেদন গ্রহণ করে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে। আগামী শুনানিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্য শোনা হবে বলে জানা গিয়েছে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিপফেক প্রযুক্তি যেমন নানা ক্ষেত্রে ইতিবাচক কাজে ব্যবহার করা সম্ভব, তেমনই এর অপব্যবহার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আদালতের হস্তক্ষেপ ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মামলা শুধু একজন ব্যক্তির সুরক্ষার বিষয় নয়, বরং ডিজিটাল যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার রোধে আইনি কাঠামো কতটা কার্যকর হতে পারে, সেই প্রশ্নেরও উত্তর খুঁজবে।

Advertisement