রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হয়েছে। ২০ জন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ এনসিপিআই দলে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও দেব। এনসিপিআই দলে যোগ দিতেই দু’জনে নিরাপত্তা পেলেন। দু’জনকেই ওয়াই ক্যাটাগরি নিরাপত্তা দেওয়া হবে বলে নবান্ন সূত্রের খবর।
জানা গিয়েছে, শুধু সুদীপ এবং দেব নন, বিদ্রোহী বাকি সাংসদদেরও নিরাপত্তা বাড়তে চলেছে। সেই সঙ্গে এনসিপিআই-এর হাওড়া দপ্তরেও কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, এনসিপিআই বা ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া ত্রিপুরার একটি দল। ২০২৩ সালে ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে এই দলের উপস্থিতি দেখা গিয়েছিল। যদিও নির্বাচনী লড়াইয়ে দলটি কোনও প্রভাব ফেলতে পারেনি। এবার সেই দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী ব্লক। সেই দলেই ২০ জন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ যোগ দিয়েছেন।
রবিবার সন্ধ্যার পর আচমকাই শিরোনামে উঠে আসে এনসিপিআই। প্রাথমিকভাবে অনেকে সেই দলটিকে মহারাষ্ট্রের এনসিপি দলের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে পুরো বিষয়টা স্পষ্ট হয়ে যায়। স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদেরা দেখা করার পরে দলটার নাম প্রথম সামনে আসে। এরপরে বিদ্রোহী সাংসদরা জানান তাঁরা এনসিপিআই-এর সঙ্গে মিশে যাচ্ছেন।
তারপরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের অস্তিত্বের প্রমাণ দিতে ফেসবুক পেজও খোলে ওই দল। আর সেই পেজে ফলোয়ারের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। ওই পেজে সকল বিদ্রোহী তৃণমূলীদের স্বাগত জানানো হয়েছে। আর সেই সঙ্গে বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকেও লোকসভার দলনেতা হিসেবে স্বাগত জানিয়ে একটি পোস্ট করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তা মুছেও দেওয়া হয়।
আরেকটি পোস্টে একটি গ্রাফিক পোস্ট করে দাবি করা হয়, লোকসভার সাংসদদের বিচারে তারা পশ্চিমবঙ্গের বৃহত্তম দল। সেখানেই জানানো হয়েছে, লোকসভায় ২০টি আসন নিয়ে এনসিপিআই এখন সংসদীয় শক্তির বিচারে পশ্চিমবঙ্গের সব থেকে বড় শক্তি। সেই সঙ্গে তারাই জাতীয় স্তরে রাজ্যের কন্ঠস্বর বলেও দাবি করা হয়।
ওই ফেসবুক পেজে দেওয়া তথ্য অনুসারে, এনসিপিআই রাজনৈতিক দলটির প্রধান কার্যালয় হাওড়ার সাঁকরাইল থানা এলাকার হাটগাছে। ত্রিপুরায় আত্মপ্রকাশ করলেও এই দলটির পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম সাংগঠনিক প্রধান হলেন শিউলি কুণ্ডু। পেশায় আইনজীবী হলেও দীর্ঘদিন ধরেই তিনি সমাজসেবার সঙ্গেও যুক্ত।




