পশ্চিম মেদিনীপুরে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। রবিবার সকালে মাঠের মধ্যে থেকে উদ্ধার হল তিনটি হাতির দেহ। এর মধ্যে দুটি শাবক ও একটি মা হাতিও রয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের পিড়াকাটা রেঞ্জের রঞ্জা বিটের হাড়তড়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। গ্রামবাসীরা এদিন সকালে ধানের জমিতে তিনটি হাতিকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। গ্রামবাসীদের অনুমান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েই হাতিগুলির মৃত্যু হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে হাতিগুলির মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। খবর পেয়েই বনদপ্তরের আদিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছয়।
রবিবার সকালে গ্রামবাসীরা চাষের কাজের জন্য যাচ্ছিলেন। সেই সময়ে তারা তিনটি হাতিকে মৃত অবস্থায় চাষের জমিতে পড়ে থাকতে দেখেন। সঙ্গে সঙ্গে বনদপ্তরে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়েই স্থানীয় বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। জমির ধারে মৃত হাতিগুলিকে দেখতে অনেক গ্রামবাসী ভিড় জমান। গ্রামবাসীদের একাংশের মতে, শনিবার রাত ১১টা নাগাদ হাতিগুলির চিৎকার শোনা গিয়েছিল। সেই সময়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বনদপ্তর হাতিগুলির দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।
প্রাথমিকভাবে অনুমান, হাতিগুলি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এসে থাকতে পারে। কারণ ওই জমির উপর দিয়ে হাইটেনশন লাইনের তার চলে গিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে ওই এলাকাতে প্রবল ঝড়বৃষ্টি হয়েছে। রাতে ওই চাষের জমি দিয়ে শাবকদের নিয়ে মা হাতিটি যাচ্ছিল। সেই সময়ে কোনওভাবে হাতিগুলি বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এসেছিল কি না তা সেই প্রশ্ন উঠছে।
আরও পড়ুন: মেঘ সরে রোদ ঝলমলে আকাশ, নেই সতর্কতা, সপ্তাহভর কেমন থাকবে উত্তর-দক্ষিণ?
কীভাবে গোটা ঘটনাটি ঘটল তা আধিকারিকেরা খতিয়ে দেখছেন। সেই সঙ্গে ওই তিনটি প্রাণী বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসেছিল কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পিড়কাটা রেঞ্জের ফরেস্ট অফিসার শুভাশিস চৌধুরী জানিয়েছেন, চাষের কাজে পাম্প চালানোর জন্য ওই ধানের জমির উপর দিয়ে বিদ্যুতের তার নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই তারে হাতিগুলি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে থাকতে পারে বলে অনেকে অনুমান করছে বলে তিনি জানিয়েছেন। এর পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের পরেই হাতিগুলির মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।




