বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়া (এসআইআর) নিয়ে নির্বাচন কমিশন যতই ‘নিখুঁত পরিকল্পনা’ ও ‘সময়মাফিক কাজ শেষ করার’ আশ্বাস দিক না কেন, মাঠের বাস্তব চিত্র ক্রমেই ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। কমিশনেরই নিজস্ব ‘নোটিস ও হিয়ারিং রিপোর্ট’-এ প্রকাশিত জেলা-ভিত্তিক পরিসংখ্যান বলছে, জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহেও পশ্চিমবঙ্গে এখনও লক্ষ লক্ষ ভোটারের শুনানি বাকি রয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ আদৌ সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে বাড়ছে সংশয়।
নথি অনুযায়ী, রাজ্যে এখনও পর্যন্ত ৬৫ লক্ষেরও বেশি নোটিস তৈরি হয়েছে। কিন্তু তার অর্ধেকেরও কম নোটিস ভোটারদের হাতে পৌঁছেছে। প্রায় ৩৩ লক্ষ নোটিস এখনও ডেলিভারির অপেক্ষায়। অর্থাৎ বহু ভোটার এখনও জানতেই পারেননি, তাঁদের নাম নিয়ে কোনও আপত্তি উঠেছে কিনা বা তাঁদের শুনানির জন্য ডাকা হচ্ছে কি না।
Advertisement
শুনানির ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি একই রকম উদ্বেগজনক। এক কোটিরও বেশি ভোটারকে শুনানিতে ডাকার লক্ষ্য স্থির করা হলেও এখনও পর্যন্ত মাত্র ৯ লক্ষের কিছু বেশি শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। ফলে পাহাড়প্রমাণ কাজ বাকি রয়ে গিয়েছে। জেলা ধরে পরিসংখ্যান খতিয়ে দেখলে দেখা যাচ্ছে, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া-সহ একাধিক বড় জেলায় নোটিস পৌঁছানো এবং শুনানি— দু’দিকেই বড় ফাঁক থেকে গিয়েছে।
Advertisement
এই অবস্থায় কমিশন অতিরিক্ত মাইক্রো অবজারভার নামানো এবং শুনানি কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, এত দেরিতে লোকবল বাড়িয়েও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমস্ত শুনানি সম্পূর্ণ করা কার্যত অসম্ভব।
এদিকে কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা। অথচ এখনও অর্ধেকেরও বেশি শুনানি বাকি থাকায়, প্রকৃত শুনানি ছাড়াই বহু ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না রাজনৈতিক মহলের অনেকে।
সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে, এসআইআর কি আদৌ একটি স্বচ্ছ সংশোধনী প্রক্রিয়া, নাকি সময়ের চাপে নাম বাদ দেওয়ার তড়িঘড়ি অভিযানে পরিণত হচ্ছে? কমিশনের নিজের রিপোর্টই সেই সন্দেহকে আরও জোরালো করেছে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক মহলের একাংশ।
Advertisement



