• facebook
  • twitter
Thursday, 8 January, 2026

অভিনেতা তথা তৃণমূল সাংসদ দেবকে এসআইআর-এর নোটিস

দেব ছাড়াও পরিবারের আরও ৩ জনকে শুনানিতে তলব

এসআইআর শুনানিতে ডাক পেলেন অভিনেতা তথা তৃণমূল সাংসদ দেব। সূত্রের খবর, দেব ছাড়াও তাঁর পরিবারের আরও তিন সদস্যকে শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় কাউন্সিলর মৌসুমী দাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সোমবার সকালেই এই খবর সামনে আসে। কমিশনের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ার আওতায় নির্দিষ্ট দিনে শুনানিতে হাজিরা দিতে হবে দেবকে। প্রাথমিক খসড়া ভোটার তালিকায় তাঁর নাম সংক্রান্ত যে তথ্যগত অসঙ্গতি দেখা গিয়েছে, তা নিয়ে ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় নথি পেশ করার জন্যই এই শুনানি।

দেবের আদি বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালে। পরবর্তী সময়ে বাবার কর্মসূত্রে মুম্বইয়ে গিয়ে থাকতে শুরু করেন দেব ও তাঁর পরিবার। অভিনয় সূত্রে তিনি কলকাতায় আসেন এবং এখানেই পাকাপাকি থাকতে শুরু করেছেন। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা দক্ষিণ কলকাতার সাউথ সিটি আবাসন। টলিউডের একজন ব্যস্ততম ও সফল অভিনেতার পাশাপাশি তিনি একজন জনপ্রতিনিধিও। নিজের জন্মস্থান ঘাটাল থেকে তিনবার সাংসদ হয়েছেন।

Advertisement

অভিনয়ের সঙ্গে জনতার কাজও তিনি করে থাকেন। এরকম একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে নোটিস পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। দেবের সঙ্গে তাঁর পরিবারের তিনজন সদস্যকেও শুনানিতে ডাকা হয়েছে। এসআইআর শুনানির নোটিস নিয়ে দেব বা তাঁর পরিবারের কাছ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে দেবের মতো একজন ব্যস্ত অভিনেতা এবং জনপ্রতিনিধিকে নোটিস পাঠানোয় হেনস্থা করার অভিযোগ তুলেছে শাসক শিবির।

Advertisement

জনপ্রিয় অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্যকেও নোটিস পাঠানো হয়েছিল। তিনিও পশ্চিম মেদিনীপুরের আদি বাসিন্দা। পরে কর্মসূত্রে সপরিবারে চলে আসেন কলকাতায়। এনুমারেশন ফর্ম ফিলআপের সময়ে ২০০২ সালের কোনও নথি দেননি অনির্বাণ, তাঁর বিরুদ্ধে সেই রকমই অভিযোগ রয়েছে। তাই তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়।

অন্যদিকে, টালিগঞ্জের বাসিন্দা দুই অভিনেতা দম্পতি কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায় ও লাবণী সরকারও পেয়েছিলেন এসআইআর শুনানির নোটিস। সেইমতো তাঁরা সোমবার সকালে শুনানিকেন্দ্রে হাজির হন। লাবণী সরকার এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘এ তো সরকারের কাজ। আমাদের কোনও প্রশ্নও নেই, উত্তরও নেই। তবে আমরা এসেছিলাম। শুধু দুটো পেপারে ওঁরা আমাদের সই করিয়েছেন। আগের সইয়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে ছেড়ে দিয়েছেন।‘

প্রশাসনিক মহলের মতে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় শুনানিতে ডাকা মানেই কোনও অভিযোগ বা অনিয়ম প্রমাণিত হয়েছে—এমনটা নয়। বরং এটি তথ্য যাচাই ও সংশোধনের সুযোগ। প্রসঙ্গত, রাজ্য জুড়ে চলা এসআইআর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে যখন একের পর এক শুনানির নোটিস পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ, তখনই সামনে আসছে এক বড় বাস্তব সমস্য। তা হল শুনানি কেন্দ্রের দূরত্ব।

অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, শুনানি কেন্দ্র বাড়ি থেকে ৩০–৫০ কিলোমিটার বা তারও বেশি দূরে। ফলে চাইলেও সেখানে পৌঁছনো অনেকের পক্ষেই কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠছে।এই সমস্যার কথা মাথায় রেখে জাতীয় নির্বাচন কমিশন ‘ডিসেন্ট্রালাইজড হিয়ারিং সেন্টার’ পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে। এতে দুর্গম এলাকার মানুষের অংশগ্রহণ আরও সহজ হবে।

Advertisement