রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক অঙ্গনে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেল। তৃণমূল থেকে নিলম্বিত ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের জামাই রায়হান আলি এবং রায়হানের বাবা শরিফুল ইসলাম রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিতে চলেছেন।
তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পর হুমায়ুন পৃথক রাজনৈতিক দল গঠন করেন। ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (জেইউপি) নামে দল ঘোষণা করলেও নির্বাচন কমিশনে একই নামে অন্য একটি দল নিবন্ধিত থাকায় দলের নাম পরিবর্তন করার কথা ভাবছেন হুমায়ুন। নতুন নাম রাখা হতে পারে ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (এজেইউপি)। নিজের দল নিয়েই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করার বিষয়ে অনড় তিনি।
এই পরিস্থিতিতে পুরনো একটি মাদক মামলায় রায়হান ও তাঁর বাবাকে একাধিকবার তলব করেছে পুলিশ। এর আগে হুমায়ুন অভিযোগ করেছিলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই তাঁর পরিবারের উপর চাপ তৈরি করা হচ্ছে। তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্যেও তাঁদের ভয় দেখানো হচ্ছে। তৃণমূল তাঁর জামাইকে লালগোলা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বলেও দাবি করেছিলেন হুমায়ুন। এবিষয়ে যদিও কোনও মন্তব্য করতে চাননি রায়হান।
রায়হান জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করবেন। বিজেপির মতো সাম্প্রদায়িক শক্তিকে রুখতে তৃণমূলই একমাত্র কার্যকর শক্তি। সেই কারণে তিনি তৃণমূলে যোগদান করবেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, বসন্ত উৎসবের পর রাজ্য নেতৃত্বের উপস্থিতিতে দলে তাঁর আনুষ্ঠানিক যোগদান হতে পারে। অনেকে মনে করছেন, লালগোলা কেন্দ্র থেকে তাঁকে প্রার্থী করা হতে পারে।
উল্লেখ্য, প্রায় ১০ বছর আগে হুমায়ুনের মেয়ে নাজমা সুলতানার সঙ্গে রায়হানের বিয়ে হয়েছিল। জামাইয়ের এই সিদ্ধান্তের কারণে পারিবারিক সম্পর্কে প্রভাব পড়বে কি না, সে বিষয়ে হুমায়ুনকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ক্ষেত্র সম্পূর্ণ আলাদা। তবে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের পরিবারের উপর প্রশাসনিক চাপ তৈরি করা হচ্ছিল। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি অপূর্ব সরকার জানান, যে কেউ দলে যোগ দিলে তা শক্তিবৃদ্ধি হিসেবেই দেখা হয়। পারিবারিক পরিচয় সেখানে মুখ্য নয়।
Advertisement