কলকাতার দমদম বিমানবন্দরের ভিতরেই রয়েছে মাগুরা মসজিদ বা বাঁকড়া মসজিদ। ওই মসজিদের কারণে বিমানবন্দরে রানওয়ে সম্প্রসারণ এক বড় সমস্যা। নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানবন্দরের ভিতরে থাকা ওই মসজিদে অনির্দিষ্টকালের জন্য নামাজ পাঠ বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শুক্রবার বাঁকড়া মসজিদ চত্বরে জমায়েতের ডাক দিয়েছিলেন তৃণমূল নেতা সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। শুধু তাই নয়, মসজিদে নমাজ পড়ার ডাকও দিয়েছিলেন তিনি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনওরকম অশান্তি না ছড়ায় সেজন্য বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন হয়।
নিয়োগ করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীও। এলাকায় জারি হয় ১৬৩ ধারা। এরই মধ্যে বিমানবন্দর চত্বরে পৌঁছে যান সিদ্দিকুল্লা। সেখানে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথাও বলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত অবশ্য পিছু হঠেন এই সংখ্যালঘু নেতা। বিমানবন্দর চত্বরে গিয়েও ফিরে যান তিনি। সিদ্দিকুল্লা জানিয়েছেন, শুক্রবারের প্রস্তাবিত কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। তবে কেন বাতিল করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি তিনি।
১৩৬ বছরের প্রাচীন বাঁকড়া মসজিদ। এই মসজিদ গৌরীপুর জামে মসজিদ নামেও পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরেই বিমানবন্দরের মধ্যেই রয়েছে ওই মসজিদ। কলকাতার দমদম বিমানবন্দরে দু’টি রানওয়ে। মূলত প্রধান এবং বড় রানওয়েটি দিয়েই বিমান ওঠানামা করে। দ্বিতীয় রানওয়েটি আকারে বেশ ছোট। ওই ছোট রানওয়েটির পাশেই রয়েছে বাঁকড়া মসজিদ। তাই রানওয়ের সম্প্রসারণে ওই মসজিদ সরানো নিয়ে দির্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। বিশেষ করে প্রধান রানওয়েটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ থাকলে সমস্যা আরও বাড়ে।
ওই মসজিদের কারণে বিমান ওঠানামার ক্ষেত্রেও ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। মসজিদের কারণেই দ্বিতীয় রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজও থমকে রয়েছে। বেশ কয়েক দশক ধরে ওই মসজিদ সরানো নিয়ে আলোচনা হলেও কাজ এতটুকু এগোয়নি। রাজ্যের বিজেপি সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, দমদম বিমানবন্দর থেকে সরানো হবে বাঁকড়া মসজিদ। ইতিমধ্যেই বিমানবন্দরের ভিতর দিয়ে মসজিদে ঢোকা বন্ধ হয়েছে।
দ্বিতীয় রানওয়েটি সম্প্রসারণের জন্যই বিমানবন্দর থেকে বাঁকড়া মসজিদ সরানোর পরিকল্পনা। ইতিমধ্যেই ওই মসজিদে মসজিদে নামাজপাঠ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তারই প্রতিবাদে এদিন বাঁকড়া মসজিদে নামাজ পাঠের ডাক দিয়েছিলেন সিদিকুল্লা। যা নিয়ে শুক্রবার সকাল থেকেই এলাকায় জোর আলোচনা শুরু হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে কলকাতা বিমানবন্দরের ৭ নম্বর গেট এবং সংলগ্ন এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করে বিধাননগর পুলিশ। গোটা এলাকা কার্যত নিরাপত্তার ঘেরাটোপে মুড়ে ফেলা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। বরং নিরাপত্তার বহর দেখে পিছু হঠেন সিদ্দিকুল্লা। এদিনের নামাজ পাঠের কর্মসূচি বন্ধ রেখে ফিরে যান এই প্রবীণ নেতা।
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই বিষয়টি নিয়ে তাঁর সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, তাঁর সরকার কোনওভাবেই কারও ধর্মীয় অধিকারে হস্তক্ষেপ করবে না। তবে সরকার জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও রকম আপোস করবে না। পাশাপাশি বিমানবন্দরের নিরাপত্তার বিষয়টিকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সে কারণেই বিমানবন্দরের ভিতর থেকে বাঁকড়া মসজিদ সরাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।সিদ্দিকুল্লা ফিরে যাওয়ার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বাঁকড়া এবং সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। কোনও রকম ঝুঁকি নিতে নারাজ প্রশাসন। পরিস্থিতির উপর সতর্ক নজর রাখছে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী।




