পূর্বপল্লীর মাঠেই হবে ৬ দিনের শান্তিনিকেতনের পৌষমেলা। মেলা শেষে ৪৮ ঘণ্টায় মাঠ ফিরিয়ে দিতে হবে। ১৫ নভেম্বর থেকে স্টল বুকিং শুরু হচ্ছে। বিশ্বভারতী জেলা প্রশাসনের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২০২৫ সালের ধারা বজায় রেখেই এবারও শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যবাহী পৌষমেলার আয়োজন হতে চলেছে। বিশ্বভারতী এবং জেলা প্রশাসনের মধ্যে দীর্ঘ বৈঠকে মেলার স্থান ও আয়োজন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী ২৩ ডিসেম্বর থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে পৌষমেলা। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় এবং জেলা প্রশাসনের মধ্যে প্রায় দু’ঘণ্টার বৈঠকের পর মেলার আয়োজন চূড়ান্ত হয়েছে। তবে মেলা শেষ হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পূর্বপল্লীর মাঠকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে হবে বলে শর্তও থাকছে।
মেলা আয়োজনে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে মাঠের স্বাভাবিক পরিবেশ ও পরিকাঠামো বজায় রাখার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন। পৌষমেলার আয়োজন, পরিকাঠামো, পরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপত্তা সবক্ষেত্রেই এবার বিশেষ নজর দিতে চলেছে বিশ্বভারতী। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ, কর্মসচিব বিকাশ মুখোপাধ্যায়, জেলাশাসক ধবল জৈন, বোলপুরের মহকুমাশাসক ব্রততী দত্ত, এসডিপিও অর্পিত আর পারাখ-সহ শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের সদস্যরা এবং জেলা প্রশাসনের কর্তারা। জেলা পুলিশ সুপার ভিদিত রাজ ভুন্দেশ ভার্চুয়াল বৈঠকে যোগ দেন।
বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ জানান, আগামী ১৫ নভেম্বর থেকে অনলাইনে পৌষমেলার স্টল বুকিং শুরু হবে। এই বছর ক্ষুদ্র শিল্পের সঙ্গে যুক্ত উৎপাদক এবং হস্তশিল্পীদের বিশেষ সুযোগ দেওয়া হবে। দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য একটি নতুন ওয়েবসাইটও চালু করা হচ্ছে। সেখানে মেলা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য মিলবে। পৌষমেলা চলাকালীন পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার দায়িত্ব থাকবে বোলপুর পুরসভার উপর। শান্তিনিকেতনের পৌষমেলা শুধু বাণিজ্যিক আয়োজন নয়, বাংলার সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত। ক্ষুদ্র শিল্পী, হস্তশিল্পী এবং স্থানীয় উৎপাদকদের বিশেষ সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তে তাঁদের অংশগ্রহণের সুযোগ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
তাছাড়া ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিবেশ রক্ষায় ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্বভারতী এবং জেলা প্রশাসন। আর দূর থেকে আসা পর্যটকদের কথা মাথায় রেখেই শান্তিনিকেতনের পৌষমেলার ঐতিহ্যের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখেই ৬ দিনের উৎসবকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ এবং শান্তিনিকেতন ট্রাস্ট।




