বর্ষায় জলযন্ত্রণায় অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে শহরবাসী। প্রতি বর্ষায় জল জমা যেন এখন অহরহ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তৎকালীন তৃণমূল সরকারের আমলে সামান্য বৃষ্টিতেই উত্তর থেকে দক্ষিণ কলকাতা জলে ডুবে যেত। বিগত সরকারের আমলে এ বিষয়ে সেভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বললেই চলে। প্রতি বর্ষাই কলকাতার প্রাক্তন মেয়রের নামে শহরের অলিতে-গলিতে ব্যানার পড়তে দেখা যেত। আর তাতে লেখা থাকত ‘জলযন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে পাশে আছে আপনাদের মেয়র’। নিকাশি ব্যবস্থা এতটাই বেহাল ছিল যে, সেই ব্যানারগুলোও বৃষ্টির জলে ডুবে যেত।
বেহালা পশ্চিমও এর ব্যতিক্রম নয়। প্রতি বছরই জলের আতঙ্কে কাটাতে হয় বেহালাবাসীকে। বেহালা পশ্চিমের দীর্ঘদিনের জমাট জলের সমস্যার স্থায়ী সমাধানে চুড়িয়াল, সোনামুখী এবং শুঁটি খালের অবিলম্বে সংস্কার ও পুনরুদ্ধাবের দাবি জানিয়ে রাজ্য সেচমন্ত্রী অরূপ কুমার দাসকে জরুরি চিঠি দিলেন যুব কল্যাণ, ক্রীড়া ও ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ড. ইন্দ্রনীল খান।

গত মাসের ২৯ জুন পাঠানো ওই চিঠিতে ইন্দ্রনীল খান উল্লেখ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে খালগুলিতে বিপুল পরিমাণ পলি, কাদা ও কঠিন বর্জ্য জমে থাকায় নিকাশি ব্যবস্থার স্বাভাবিক জলপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ড্রেনের জল ঠিকমতো বেরোতে পারছে না। উল্টে খাল থেকে জল ঢুকে বেহালা পশ্চিমের বিস্তীর্ণ এলাকায় সপ্তাহের পর সপ্তাহ জমে থাকছে। এর জেরে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে সেই সঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্তও নানা রকমের সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
মন্ত্রী চিঠিতে আরও জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত খালগুলির পলি অপসারণ (ডিসিল্টিং) অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি খালগুলির মূল প্রস্থ পরীক্ষা করে প্রয়োজনে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনারও আবেদন জানিয়েছেন তিনি। বর্ষার কথা মাথায় রেখে যত দ্রুত সম্ভব চুড়িয়াল, সোনামুখী ও শুঁটি খালের পুনর্গঠন ও সংস্কারের কাজ শুরু করার জন্য সেচমন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়েছেন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খান। তাঁর বক্তব্য, দ্রুত পদক্ষেপ করা হলে বেহালা পশ্চিমের মানুষকে দীর্ঘস্থায়ী জলজটের সমস্যা থেকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হবে।




