• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 18 June, 2026

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই আপাতত বিরোধী দলনেতা, জানাল হাইকোর্ট

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধী দলনেতা স্বীকৃতি মামলায় এক কথায় বলা যায় অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করল না কলকাতা হাইকোর্ট

বিধানসভার বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে চলা মামলায় আপাতত কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিল না কলকাতা হাইকোর্ট। ফলে অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসুর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই আপাতত বিরোধী দলনেতা পদে বহাল থাকছেন। বিচারপতি কৃষ্ণ রাও জানিয়েছেন, মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ২৮ জুলাই। তার আগে সব পক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের পরিষদীয় দলে ভাঙন দেখা দেয়। দলীয় নেতৃত্ব শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করলেও, ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ওই পদে নির্বাচিত হন। এর আগেই দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ঋতব্রতকে তৃণমূল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

তৃণমূলের দাবি দলীয় চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুমোদনক্রমে শোভনদেবের নাম অধ্যক্ষ জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাব কার্যকর না করে অধ্যক্ষ ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন। এই সিদ্ধান্তকেই আদালত চ্যালেঞ্জ করেন শোভনদেব।

শুনানিতে বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর কীভাবে ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হল এবং কেন দলীয় নেতৃত্বের প্রথম চিঠির পরিবর্তে পরবর্তী প্রস্তাবকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

স্পিকারের পক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য ছিল, বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনও আইন নেই। বিধানসভার রীতি ও সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থনের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছ। তাঁর দাবি, ৫৮ জন বিধায়ক সরাসরি স্পিকারের কাছে উপস্থিত হয়ে ঋতব্রতের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন।

ঋতব্রতের আইনজীবী জয়দীপ করও যুক্তি দেন যে, বিরোধী দলনেতা নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থনই মূল বিষয়। তাঁর মতে বিদ্রোহী বিধায়কদের বিরুদ্ধে দলত্যাগবিরোধী আইনে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, ফলে তাঁদের সমর্থন বৈধ।

অন্যধিকে, শোভনদেবের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, বিরোধী দলনেতা নির্বাচন করার অধিকার রাজনৈতিক দলের, পরিষদীয় দলের নয়। দলীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হওয়া উচিত ছিল এবং বহিষ্কৃত কোনও ব্যক্তিকে ওই পদে বসানো আইনসঙ্গত নয়।

সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত আপাতত কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আদালতের এই অবস্থানের পর ঋতব্রত শিবিরের বিধায়ক সন্দীপন সাহা বলেন, ‘এটা আমাদের নৈতিক জয়। আমরা আইন মেনেই পদক্ষেপ করেছি।‘