• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 12 June, 2026

‘মানুষের হারানো বিশ্বাস ফিরিয়ে আনাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ’, বার্তা স্কুল শিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মণের

পশ্চিমবঙ্গের মানুষ ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রত্যাশা পূরণ করার জন্য সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করবেন বলেও আশ্বাস দেন তিনি

নতুন সরকারের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরই শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি মানুষের হারিয়ে যাওয়া আস্থা ফিরিয়ে আনার উপর জোর দিলেন ফালাকাটার বিজেপি বিধায়ক দীপক বর্মণ। বৃহস্পতিবার সল্টলেকের বিকাশ ভবনে নিজের দপ্তরের দায়িত্বভার গ্রহণ করে তিনি জানান, শিক্ষা ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা সমস্যাগুলির সমাধান করাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী দীপক বর্মণ বলেন,  সামনে অনেক কাজ অপেক্ষা করছে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রত্যাশা পূরণ করার জন্য সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করবেন বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
শিক্ষা দপ্তরে অতীতের দুর্নীতি এবং বিতর্ক প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নতুন মন্ত্রী বলেন, এই দপ্তরকে আর নিচের দিকে নামানোর জায়গা নেই। এখন একমাত্র লক্ষ্য হবে শিক্ষাক্ষেত্রকে উন্নতির পথে ফিরিয়ে আনা। তাঁর মতে, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল সাধারণ মানুষের বিশ্বাস পুনরুদ্ধার করা। বহু মানুষ আজ আর বিশ্বাস করেন না যে পড়াশোনা করে চাকরি পাওয়া সম্ভব। একইসঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রতি সমাজের আস্থাতেও ধাক্কা লেগেছে। এই পরিস্থিতি বদলানোই হবে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে জানান তিনি।
স্কুলশিক্ষার উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রথমে কোন বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে, সেই প্রশ্নের উত্তরে দীপক বর্মণ বলেন, ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষকদের মধ্যে সুস্থ ও নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। তাঁর মতে, শিক্ষাব্যবস্থার মূল ভিত্তি এই দুই পক্ষ, তাই তাঁদের একসঙ্গে নিয়ে চলাই উন্নয়নের প্রথম ধাপ।
স্কুলগুলির বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কেও তিনি মন্তব্য করেন। জানান, দপ্তর সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখবে এবং যেখানে যে ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন, তা নেওয়া হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, একদিনে বা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষাক্ষেত্রের সব সমস্যা দূর করা সম্ভব নয়। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, যার জন্য সময় লাগবে। কিন্তু ধাপে ধাপে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে বলেই তিনি আশাবাদী।
এসএসসি নিয়োগ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে সতর্ক অবস্থান নেন নতুন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তাই এই মুহূর্তে কোনও নির্দিষ্ট মন্তব্য করতে চান না। আদালতের প্রক্রিয়া ও আইনি বিষয়কে সম্মান জানিয়েই ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।