রক্ত পরীক্ষা করাতে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হলেন একাধিক মুমূর্ষু রোগীর পরিবার। অভিযোগ, জরুরি বিভাগে রক্তের নমুনা পরীক্ষার জন্য সেন্ট্রাল ল্যাবের বাইরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করা পরেও ন্যূনতম সাহায্য মেলেনি। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঠিক এইরকমই ঘটনা ঘটেছে কল্যাণী কলেজ অফ মেডিসিন অ্যান্ড জেএনএম হাসপাতালে।

জানা গিয়েছে, সেদিন রাতে রক্ত পরীক্ষা করাতে এসে রোগীর পরিজনেরা দেখেন ল্যাবের দরজা বন্ধ। বারবার বেল বাজানো ও ডাকাডাকি সত্ত্বেও ভেতর থেকে কোনও সাড়াশব্দ মেলেনি। অভিযোগ, ল্যাবের দায়িত্বপ্রাপ্ত টেকনিশিয়ান ভেতরে বেঘোরে ঘুমোচ্ছিলেন। কর্মরত গ্রুপ ডি কর্মী বেপাত্তা ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে গ্রুপ ডি কর্মী সিগারেট কিনতে বাইরে গিয়েছিলেন। অগত্যা রক্ত পরীক্ষার স্যাম্পেল হাতে ল্যাবের বাইরে উৎকণ্ঠায় রাত কাটাতে হয় রোগীর স্বজনদের।

পরিস্থিতি দেখে খবর দেওয়া হয় হাসপাতালের ফাঁড়ির পুলিশকে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ বাহিনী। পুলিশের হস্তক্ষেপে ঘুম ভাঙে ল্যাব টেকনিশিয়ানের এবং খোঁজ পড়ে নিখোঁজ কর্মীটির। ঘটনায় ক্ষুব্ধ রোগীর আত্মীয় রিঙ্কু মণ্ডল ও মনিরুল শেখেরা। তাঁরা জানান, জরুরি মুহূর্তে চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় এমন দায়িত্বজ্ঞানহীনতা রোগীর জীবনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

আরও পড়ুন: কলকাতায় বসে মার্কিন নাগরিকদের প্রতারণার অভিযোগ, পুলিশের জালে ৩
কিছুদিন আগেই রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার মাঝরাতে ছদ্মবেশে ওই হাসপাতালে হানা দিয়েছিলেন। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর সারপ্রাইজ ভিজিটের পর কড়া ব্যবস্থার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। সেখানে এই ছবি হাসপাতাল প্রশাসনের ঢিলেঢালা নজরদারির দিকেই ফের আঙুল তুলে দিল। হাসপাতালের পরিষেবা যে শুধরোয়নি ফের তা প্রকাশ্যে এল। হাসপাতালে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হলেন একাধিক মুমূর্ষু রোগীর আত্মীয়রা।




