• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 30 June, 2026

প্রাইভেট টিউশনে না সরকারি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের, নির্দেশ অমান্য করলেই কড়া শাস্তি

শুধু তাই নয়, সেই মুচলেকায় প্রত্যেকটি শিক্ষকের নাম, তাঁদের স্কুলের নাম ও সেই শিক্ষক কী কী বিষয় পড়ান সেটা উল্লেখ থাকবে। চিঠির সঙ্গে যে মুচলেকা দেওয়া হবে, সেটার প্রিন্টআউট বের করে শিক্ষককে জমা দিতে হবে।  

প্রাইভেট টিউশনে না সরকারি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের, নির্দেশ অমান্য করলেই কড়া শাস্তি

প্রাইভেট টিউশন করতে পারবেন না সরকারি শিক্ষক-শিক্ষিকারা। এর জন্য তাঁদের মুচলেকা দিতে হবে। কিন্তু মুচলেকা দেওয়ার পরেও যদি কোনও সরকারি শিক্ষক-শিক্ষিকা টিউশন পড়ান, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় এমনই ছবি সামনে এসেছে। এ বিষয়ে আগামী সপ্তাহে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(মাধ্যমিক) অফিস থেকে জেলার সমস্ত স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের কাছে চিঠি পাঠানো হবে। সেই চিঠির সঙ্গে মুচলেকার কপিও থাকবে।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ৯৫৬টি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সহ-শিক্ষকদের মুচলেকা দিতে হবে। তাঁরা আর টিউশন করাবেন না সেই নিয়েই তাঁদেরকে মুচলেকা জমা দিতে হবে। কী লেখা থাকবে সেই মুচলেকায়? সেই মুচলেকায় লেখা থাকবে, আমি ঘোষণা করছি, আমি কোনওরকম প্রাইভেট টিউশনের সঙ্গে যুক্ত নই। শুধু তাই নয়, সেই মুচলেকায় প্রত্যেকটি শিক্ষকের নাম, তাঁদের স্কুলের নাম ও সেই শিক্ষক কী কী বিষয় পড়ান সেটা উল্লেখ থাকবে। চিঠির সঙ্গে যে মুচলেকা দেওয়া হবে, সেটার প্রিন্টআউট বের করে শিক্ষককে জমা দিতে হবে।

কিন্তু কোনও শিক্ষক যদি মুচলেকার দেওয়া শর্ত না মানেন, তাহলে? কোনও শিক্ষক যদি মুচলেকা দেওয়ার পরেও টিউশন করতে গিয়ে ধরা পড়েন বা প্রমাণিত হয়, তাহলে তাঁর বেতন বন্ধের পাশাপাশি তাঁকে শো-কজ পর্যন্ত করা হবে। প্রাইভেট টিউশন করার অভিযোগে প্রায় ৮০০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকার নাম জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক অফিসে গৃহশিক্ষক কল্যাণ সমিতি জমা দিয়েছে। তবে এখনই তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।

আপাতত সকল শিক্ষক-শিক্ষিকার কাছ থেকে মুচলেকা আদায় করবে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(মাধ্যমিক) কার্যালয়। তারপর কোনও শিক্ষক-শিক্ষিকা নির্দেশ অমান্য করলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পূর্ব মেদিনীপুরে ডেপুটেশনের সময় প্রাইভেট টিউশনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নাম জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে।

সরকারের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকারা টিউশন পড়াতে পারবেন না। কিন্তু সেই নির্দেশিকার পরেও পূর্ব মেদিনীপুরের অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকা প্রাইভেট টিউশন পড়েচ্ছেন। তমলুক, কোলাঘাট, পাঁশকুড়া, হলদিয়া, কাঁথি-সর্বত্রই এই ছবি দেখা যাচ্ছে। এমনকী অনেক সময়ে গ্রামাঞ্চল থেকে ছাত্রছাত্রীরা দল বেঁধে শহরে এসে শিক্ষকদের বাড়িতে পড়তে যায়। কিন্তু সেই ছবি যাতে আর পুনরাবৃত্ত হয়, তার জন্য এবার কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হল।