সিপিএমের রাজ্য কমিটি থেকে আচমকা পদত্যাগ করলেন প্রতীক উর রহমান। দলীয় সূত্রে খবর, সোমবার সকালে তিনি নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের কাছে। যদিও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে চাননি তিনি। যা বলার দলের ভিতরেই বলবেন বলে জানিয়েছেন প্রতীক উর রহমান। প্রকাশ্যে বা সমাজমাধ্যমে এই মুহূর্তে কিছুই বলতে চাইছেন না বলে খবর।
এ ব্যাপারে সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এটা পার্টির অভ্যন্তরীণ ও সাংগঠনিক বিষয়। সাংগঠনিক বিষয় সমাজ মাধ্যমে আলোচনা হয় না, কমিটির বৈঠকে হয়। দু’দিন পরেই রাজ্য কমিটির বৈঠক আছে, সেখানে আলোচনা হবে।‘
Advertisement
অন্যদিকে প্রতীকের নাম না করে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেছেন বামমনোভাবাপন্ন অভিনেত্রী উষশী চক্রবর্তী। তিনি সমাজমাধ্যমে লিখেছেন – ‘জয় পরাজয়ের থেকে মেরুদণ্ড সোজা রাখাটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যাদেরকে অ্যাসেট ভাবি, আশা করব তাদের কাছেও।’
Advertisement
এক সময়ের ছাত্রনেতা প্রতীক উর ভারতের ছাত্র ফেডারেশন (এসএফআই)-এর রাজ্য সভাপতি ছিলেন। ২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। আসন্ন বিধানসভা ভোটেও ওই কেন্দ্রেই তাঁর প্রার্থী হওয়া প্রায় নিশ্চিত বলে জল্পনা ছিল। তার মাঝেই এই পদত্যাগ রাজনৈতিক মহলে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
আলিমুদ্দিন সূত্রে খবর, বেশ কিছু বিষয়ে দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ তৈরি হচ্ছিল। সেই কারণেই রাজ্য কমিটির সদস্যপদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত। যোগাযোগ করা হলে প্রতীক উর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘যা বলার দলের ভিতরেই বলেছি,—এ মুহূর্তে সংবাদমাধ্যমের সামনে কিছু বলতে চান না।’ এই মুহূর্তে রাজনীতির আঙিনায় বিতর্কিত হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে তার কথা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কেন আমার নাম প্রতীক উর বলে?’
প্রতীক উর এবং সৃজন ভট্টাচার্য একসময় এসএফআইয়ের গুরুত্বপূর্ণ জুটি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা কমিটি গঠন নিয়ে জটিলতার পাশাপাশি সমাজমাধ্যমে শতরূপ ঘোষের হুমায়ুন- সেলিম বৈঠককে সমর্থন করা মন্তব্যের পাল্টা দিয়েছিলেন প্রতীক উর। তিনি তাঁর সমাজ মাধমে পোস্ট করে জানান ‘ নীতি নৈতিকতা ছাড়া আর যাই হোক কমিউনিস্ট পার্টি হয় না। যা দলীয় অন্দরে ব্যাপক চর্চার জন্ম দেয়। যদিও মতবিরোধের নির্দিষ্ট কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। বিধানসভা ভোটের আগে তাঁর এই পদত্যাগে সিপিএমের ভিতরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
Advertisement



