• facebook
  • twitter
Tuesday, 13 January, 2026

ইডি বিতর্কে মমতার পাশে রাজভর? যোগী মন্ত্রীর প্রশংসায় বিজেপি শিবিরে অস্বস্তি

প্রশংসার পাশাপাশি রাজভর বলেন, ‘আইনের তদন্তে সকলেরই সহযোগিতা করা উচিত।’ অর্থাৎ ইডি প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সহযোগিতার পরামর্শও দেন তিনি।'

উত্তর প্রদেশের মন্ত্রীর মুখে মমতার ভূয়সী প্রশংসা। বিষয়টি নিয়ে আচমকা বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এলেন সুহেলদেব ভারতীয় সমাজ পার্টির সভাপতি ওমপ্রকাশ রাজভর। কার্যত মমতাকেই সমর্থন জানালেন এনডিএ জোটের এই শরিক নেতা। উত্তরপ্রদেশের বালিয়ায় এক জনসভায় আইপ্যাকের দপ্তরে ইডি হানা এবং তা ঘিরে তৃণমূল ও বিজেপির সংঘাত প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়েই মমতার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন রাজভর।

মঞ্চ থেকে রাজভর বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলায় দক্ষ ও শক্তিশালী নেতৃত্ব দিয়েছেন। একজন মহিলা হয়েও তিনি রাজনীতিতে নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর কাজকে অস্বীকার করা যায় না।’ তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে জল্পনা। কারণ, বাংলায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপির আক্রমণ যখন তুঙ্গে, তখন যোগী আদিত্যনাথ সরকারের এক মন্ত্রীর মুখে এমন প্রশংসা বিজেপির অন্দরে অস্বস্তি বাড়িয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Advertisement

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজভরের এই বক্তব্য নিছক সৌজন্য নয়, বরং স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা। প্রসঙ্গত, রাজভর এনডিএ জোটের শরিক হয়েও তিনি এর আগেও একাধিকবার বিজেপির অবস্থানের থেকে ভিন্ন মত প্রকাশ করে বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছেন। এবার কেন্দ্রীয় সংস্থার ভূমিকা নিয়ে যখন তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে তীব্র টানাপোড়েন চলছে, ঠিক সেই সময় উত্তরপ্রদেশ সরকারের এক মন্ত্রীর মুখে মমতার প্রশংসা নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

Advertisement

যদিও প্রশংসার পাশাপাশি রাজভর বলেন, ‘আইনের তদন্তে সকলেরই সহযোগিতা করা উচিত।’ অর্থাৎ ইডি প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সহযোগিতার পরামর্শও দেন তিনি। তবু রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, প্রশংসার মূল সুর এতটাই জোরালো যে, তা বিজেপির অস্বস্তি ঢাকতে পারেনি।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি আইপ্যাক দপ্তরে ইডি হানার প্রতিবাদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তাৎক্ষণিক অবস্থান ইন্ডিয়া জোটকে আরও সংহত করেছে। সমাজবাদী পার্টি, শিব সেনা, ডিএমকে-সহ একাধিক বিরোধী দল প্রকাশ্যে তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়েছে। সেই আবহেই এবার এনডিএ জোটের এক শরিক নেতার মুখে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন প্রশ্ন তুলে দিল বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

Advertisement