• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 13 July, 2026

বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়া ট্রলার থেকে উদ্ধার ৯ মৎস্যজীবীর দেহ, এখনও নিখোঁজ ৬

রাতভর উদ্ধারকাজ চালিয়ে ট্রলারের ভিতর থেকে ৯ জন মৎস্যজীবীর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে

বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়া ট্রলার থেকে উদ্ধার ৯ মৎস্যজীবীর দেহ, এখনও নিখোঁজ ৬

Nine Fisherman Died Photo-ANI

বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়া ট্রলার থেকে উদ্ধার হলো ৯ জন মৎস্যজীবীর দেহ। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৬ জন মৎস্যজীবী। ট্রলারের ভিতরে জোরদার তল্লাশি চলে। রবিবার মাঝরাতে গভীর সমুদ্র থেকে ডুবে যাওয়া ট্রলারটিকে পাথরপ্রতিমার গোবর্ধনপুর খেয়াঘাটে টেনে নিয়ে আসা হয়। পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘা শঙ্করপুর বন্দর থেকে গত ২ জুলাই মাছ ধরার জন্য রওনা দিয়েছিল ‘মা কালী’ ট্রলার। ৫ জুলাই থেকে ট্রলারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তারপর টানা আট দিন তল্লাশির পর ওই ট্রলার বকখালি উপকূল থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে বাঘেরচরের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। ওই ট্রলারে তল্লাশি চালিয়ে মৎস্যজীবীদের দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এই ঘটনায় রীতিমতো শোকের ছায়া নেমে এসেছে পূর্ব মেদিনীপুরে। ওই ট্রলারের ভিতর থেকে পাম্পের মাধ্যমে জল বের করে দেওয়া হয়। তার পর তল্লাশি শুরু করা হয়। সারারাত তল্লাশির পর সোমবার সকালে ৯ জন মৎস্যজীবীর দেহ উদ্ধার হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ৬ জন মৎস্যজীবী নিখোঁজ রয়েছেন বলে খবর। দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোবর্ধনপুর থানার পুলিশ, বনদপ্তর এবং ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী বাঘেরচরের কাছে ডুবন্ত ট্রলার শনাক্ত করে। আর সেটিকে উদ্ধার করে গোবর্ধনপুরের সীতারামপুরে আনা হয়।

একইসঙ্গে রাতভর উদ্ধারকাজ চালিয়ে ট্রলারের ভিতর থেকে ৯ জন মৎস্যজীবীর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই ট্রলারে মোট ১৫ জন মৎস্যজীবী ছিলেন। এখনও ৬ জনের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। আর উদ্ধার হওয়া দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সোমবার নিখোঁজদের সন্ধানে দিনভর তল্লাশি অভিযান চালানো হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন। পুলিশ সূত্রে খবর, এই ৯ জনের পরিচয় জানার কাজ এখন চলছে। সবটা জানা হয়ে গেলে পরিবারদের খবর দেওয়া হবে। জলে ডুবেই তাঁরা মারা গিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।

তাছাড়া এই ট্রলারের ১৫ জন মৎস্যজীবীর সঙ্গে কোনওভাবে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। তাই বিষয়টি স্থানীয় মৎস্যজীবী সংগঠন, পুলিশ এবং উপকূলরক্ষী বাহিনীকে জানানো হয়েছিল। এই খবর পেয়েই একযোগে সবাই নদী এবং সমুদ্রের নানা জায়গায় তল্লাশি শুরু করে দেয়। বিস্তর খোঁজাখুঁজির পর ট্রলারটিকে গভীর সমুদ্রে ডুবন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুন্দরবন উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর জানা বলেন, ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। খবর মুখ্যমন্ত্রীকে জানালাম। তারপর তাঁর নির্দেশেই এখানে এসেছি। উদ্ধারকাজ চলছে। মোট ৯ জনের দেহ মিলেছে। এখনও ট্রলারে কিছু মৎস্যজীবীদের দেহ আটকে থাকতে পারে। মৃতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।’