ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ঘটল। মামলার দায়িত্ব নেওয়ার ৮৭ দিনের মধ্যেই এনআইএ কলকাতার বিশেষ এনআইএ আদালতে ৬৫ পাতার চার্জশিট জমা দিয়েছে। চার্জশিটে আহিদুল ইসলাম মোল্লা ও রহমত আলি মোল্লার বিরুদ্ধে এক্সপ্লোসিভ অ্যাক্টের একাধিক ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি চার্জশিটে ধৃত তৃণমূল নেতার নাম মূল অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা।
তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মামলায় মোট পাঁচজন অভিযুক্ত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং এখনও পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদিন দু’জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জশিট জমা দেওয়া হলেও গ্রেপ্তার হওয়া তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ভূমিকার উল্লেখও তদন্ত নথিতে করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এনআইএ-র দাবি, নির্বাচনের আগে এলাকায় প্রভাব বিস্তার এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরির উদ্দেশে বোমা তৈরির কাজ চলছিল। সেইসময় একটি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেই বিস্ফোরণের জেরে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয় ও বেশ কয়েকজন আহত হয়। এরপরে ঘটনার তদন্তে নামলে দেখা যায়, এই কর্মকাণ্ড পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হচ্ছিল এবং এর নেপথ্যে শওকত মোল্লার নির্দেশ ছিল বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের নাম গোপন রাখার উদ্দেশে বিশেষ সতর্কতাও নেওয়া হয়েছিল বলে চার্জশিটে উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে শওকত মোল্লাকে আগামী ১৯ জুন আদালতে তোলার কথা থাকলেও তাঁকে নির্ধারিত সময়ের আগেই আদালতে হাজির করা হয়। এনআইএ তাঁর বিচারবিভাগীয় হেফাজতের আবেদন জানায় এবং নিরাপত্তার স্বার্থে প্রেসিডেন্সি জেলে রাখার প্রস্তাবও দেয়। যদিও শওকতের আইনজীবী আদালতে সেই আবেদন নিয়ে আপত্তি তোলেন। ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলায় এনআইএ-র এই চার্জশিটকে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামীদিনে বাকি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে।




