• facebook
  • twitter
Friday, 9 January, 2026

ভোটের আগে তিন কর্মসূচিতে মনোনিবেশ করছে নবান্ন

পাকা বাড়ি ও বাড়ির বাইরে পাকা রাস্তা–– বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই দুটি পরিষেবামূলক বিষয়কে মানুষের সামনে তুলে ধরতে তিনটি কর্মসূচির উপর জোর দিয়েছে নবান্ন

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

পাকা বাড়ি ও বাড়ির বাইরে পাকা রাস্তা–– বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই দুটি পরিষেবামূলক বিষয়কে মানুষের সামনে তুলে ধরতে তিনটি কর্মসূচির উপর জোর দিয়েছে নবান্ন। ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে এই কর্মসূচিগুলির কাজ বাস্তবায়িত করার বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচিগুলি হল ‘বাংলার বাড়ি’, ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ এবং ‘পথশ্রী’। তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব বিশ্বাস করেন, এই তিন অস্ত্রেই আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির মেরুকরণের রাজনীতিকে ভোঁতা করা যাবে।
এর আগের দফায় ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে ১২ লক্ষ পরিবারকে অর্থ দিয়েছিল রাজ্য সরকার। বিধানসভা ভোটের আগে আরও ১৬ লক্ষ পরিবারের কাছে পৌঁছে যাবে আবাসের প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা। রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার জানিয়েছেন, এখনও তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। তবে জানুয়ারি মাসেই আবাসের প্রথম কিস্তির অর্থ উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি পৌঁছে যাবে।
অর্থাৎ, দু’দফা মিলিয়ে ২৮ লক্ষ পরিবার পাকা বাড়ি তৈরির টাকা পাচ্ছে। ১২ লক্ষ উপভোক্তা দুই কিস্তিই পেয়ে গিয়েছে। ১৬ লক্ষ পরিবার ভোটের আগে প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা পেতে চলেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গড়ে প্রতিটি পরিবারে ৪ জন করে থাকলে সার্বিকভাবে সুবিধাভোগীর সংখ্যা দাঁড়াবে সওয়া ১ কোটি। তৃণমূল আশাবাদি, এই প্রকল্পের উপভোক্তার পরিবারের সকলে তৃণমূলকে ভোট দেবেন। যদিও অন্য এক সূত্রের যুক্তি, প্রতি পরিবারের সকলেই ভোটার হবেন এরকম না–ও হতে পারে। ফলে সংখ্যাটা ১ কোটির নীচে থাকবে।
বাংলার বাড়ির পাশাপাশি ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ প্রকল্পেও মনোনিবেশ করেছে রাজ্য সরকার। বুথপিছু ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার। এই প্রকল্পে পাড়ার রাস্তা, সৌরবাতি, ছোট সেতু নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। এছাড়াও বড় রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য ‘পথশ্রী-৪’ শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পে সারা রাজ্যে মোট ২০ হাজার কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে।
এই তিনটি কর্মসূচির ক্ষেত্রে তৎপরতা দেখাতে শুরু করেছে রাজ্য সরকার। স্থানীয় স্তরে জনপ্রতিনিধিদেরও এবিষয়ে সতর্ক ও সক্রিয় থাকার কথা বলেছে তৃণমূল। উল্লেখ্য, গত চার-পাঁচ বছর ধরে একাধিক প্রকল্পে রাজ্যের জন্য বরাদ্দ বন্ধ করে দিয়েছে কেন্দ্র। এই নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ রাজ্যের শাসকদল। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের এই উদ্যোগ বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্প্রতি তৃণমূল সরকার গত দেড় দশকে কী কী কাজ করেছে তার খতিয়ান তুলে ধরে একটি ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রকল্পের গানটি গেয়েছেন ইমন চক্রবর্তী। পাড়ায় পাড়ায় সেই গান বাজিয়ে প্রচার চালাচ্ছে তৃণমূলের মহিলাবাহিনী। এই পাঁচালিতে সর্বাধিক গুরুত্ব পাচ্ছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প। এই উন্নয়নের পাঁচালির প্রচারে বিশেষ জোর দিয়েছে তৃণমূল।

Advertisement

Advertisement