ধর্মতলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধরনামঞ্চে শুক্রবারের সমাবেশ শুধু রাজনৈতিক প্রতিবাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। সেখানে উঠে এসেছে ব্যক্তিগত স্মৃতি, কৃতজ্ঞতা ও আবেগের এক বিশেষ মুহূর্ত। সিইও অফিসের ‘এসআইআর’ জট এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগের প্রতিবাদে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন কবি জয় গোস্বামী।
কবি জানান, জীবনের এক অত্যন্ত সংকটজনক সময়ে তাকেও ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছিল। তখন তাঁর পরপর তিনটি অস্ত্রোপচার হয়েছিল এবং শারীরিক অবস্থাও ছিল খুবই খারাপ। সেই সময় তাঁর বাড়িতে ফোন করে ভোটাধিকারের প্রমাণ সংক্রান্ত নথি চাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হলেও তাঁকে না জানিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ব্যবস্থা করেছিলেন।
Advertisement
জয় গোস্বামীর কথায়, ‘এসআইআরের কারণে সাধারণ মানুষ বিপদের মধ্যে পড়ছেন। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরই রয়েছে।‘ তিনি জানান, এই ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টে যে মামলা হয়েছে, সেখানে তিনিও একজন আবেদনকারী। তাঁর দাবি, শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পিছনে মমতার উৎসাহই বড় ভূমিকা নিয়েছে।
Advertisement
বক্তৃতার এক পর্যায়ে কবি ফিরে যান অতীতের স্মৃতিতে। তিনি স্মরণ করেন ২০০৭ সালের ১৪ মার্চের নন্দীগ্রামের সেই উত্তাল সময়কে। জয় গোস্বামীর বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশের বাধা সত্ত্বেও সেই রাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করে রাস্তা পরিষ্কার করিয়ে ভোররাতে হাসপাতালে পৌঁছেছিলেন। সেই সফরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন কবীর সুমনও।
আরও একটি ব্যক্তিগত স্মৃতির কথা তুলে ধরে কবি বলেন, এক রাতে মহাশ্বেতা দেবীর বাড়িতে সাধারণ আড্ডার সময় খুব শান্তভাবে মমতা তাঁকে বলেছিলেন, ‘কাজ করা ছাড়া আর আমাদের কী করার আছে জয়দা?’ সেই স্মৃতির আবেগে আপ্লুত হয়ে জয় গোস্বামী এ দিন ঘোষণা করেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি মমতার পাশে থাকবেন।
কবির বক্তব্যের পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই এসআইআর সংক্রান্ত ঘটনায় জয় গোস্বামীও এক ধরনের ভুক্তভোগী। তাঁর মতো একজন বিশিষ্ট মানুষকেও শুনানিতে ডেকে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ করে মমতা মন্তব্য করেন, এটি আসলে অপমান ও হেনস্থারই সামিল।
Advertisement



