গ্রাম থেকে শহরের হাসপাতালে চিকিৎসা করতে আসতে বিস্তর হ্যাপা পোহাতে হয় রোগীদের। এবার সেই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে নয়া ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এই ধরণের রোগীদের জন্য বিনামূল্যে এসি বাস চালু হল মুর্শিদাবাদের দুটি লোকসভা কেন্দ্রে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘সু-দৃষ্টি’ প্রকল্পে রোগী পরিবহণের জন্য দুটি আধুনিক এসি বাসের উদ্বোধন হল। জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমান এবং বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠানের সাংসদ তহবিল থেকে তার জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। বহরমপুর এবং জঙ্গিপুর লোকসভা কেন্দ্রের গ্রামীণ এলাকার রোগীদের বিনা খরচে বাড়ি থেকে মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজে ও জঙ্গিপুর হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হবে।
এখানেই শেষ নয়, সেখানে পৌঁছে দেওয়ার পর চিকিৎসা শেষে আবার তাঁদের বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হবে এই বাস দুটিতে। পশ্চিমবঙ্গে এরকম উদ্যোগ এই প্রথম হয়েছে। ওই বাস দুটিতে জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসার সুবিধাও থাকবে। বহরমপুর এবং জঙ্গিপুর লোকসভা কেন্দ্রের প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষজন ওই পরিষেবার সুবিধা পাবেন। এই খবর চাউর হতেই খুশির হাওয়া বইতে শুরু করেছে স্থানীয় মানুষজনের মধ্যে। এই দুই সাংসদ খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠান তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই দলে যোগ দিয়েছেন। তবে তাঁদের সাংসদ পদ খারিজের মামলা সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা সময় দিয়েছেন তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য। তার মধ্যেই এমন নয়া উদ্যোগ নিলেন তাঁরা।
বহরমপুরে জেলাশাসকের অফিস থেকে এই দুটি এসি বাসের যাত্রা সূচনা হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুই সাংসদ, মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক আর অর্জুন, জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সন্দীপ সান্যাল-সহ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ এবং জেলা প্রশাসনের শীর্ষ অফিসাররা। এই বিষয়ে জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমান বলেন, ‘জঙ্গিপুর লোকসভার বাসিন্দাদের জন্য রাজ্যে প্রথম এই বিশেষ পরিষেবা চালু করতে পেরে আমি অত্যন্ত খুশি।’ আর সাংসদ ইউসুফ পাঠান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করে বলেন, ‘এখনকার মুখ্যমন্ত্রী খুব ধৈর্য্য ধরে কথা বলেন ও শোনেন। কাজ করতে সুবিধা হবে। এই পরিষেবায় গরিব মানুষদের খুব সুবিধা হল।’
তাছাড়া রাজ্য সরকারের চেষ্টায় এই দুই লোকসভা কেন্দ্রে আরও উন্নয়নের কাজ এগোবে। ৫০ স্কুলের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। সেখানে স্মার্ট ক্লাসরুম হবে এবং স্পোর্টসের জন্য ভাল কাজ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। এই ফ্রি এসি বাস পরিষেবা চালু হওয়ায় রোগী এবং তাঁদের পরিবারের হয়রানি কমবে ও যাতায়াত খরচ সাশ্রয় হবে। এই পরিষেবার সময়সূচি ও রুটের তালিকা সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য নানা গ্রাম পঞ্চায়েত এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জানিয়ে দেওয়া হবে।




