অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের বিপদ আরও বাড়ল। ডেবরা থানার একটি অভিযোগ দায়ের হলো সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে। গত ১৬ জুন ডেবরা থানায় মেদিনীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরার নামে একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। সেই অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে সুমিত রায়ের নাম উঠে আসে। আর এফআইআরে সুমিতের নাম যুক্ত হয়। সেটারই এবার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। জমি জালিয়াতি, মাটি চুরির অভিযোগের পরে এবার নতুন অভিযোগ সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণা। ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। সিআইডি লুকআউট নোটিসও জারি করেছে।
এদিকে পুলিশ সূত্রে খবর, সুমিতের বিরুদ্ধে নতুন করে ডেবরা থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে লক্ষাধিক টাকা নিয়েছেন সুমিত বলে অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। জনৈক ব্যক্তি অপর আর একজন ব্যক্তির মাধ্যমে সুমিতকে লক্ষাধিক টাকা দিয়েছিলেন সরকারি চাকরি পাওয়ার জন্য। সেই টাকা দেওয়ার পর নথি পেয়েছিলেন, মেডিক্যাল পরীক্ষাও হয়েছিল। কিন্তু চাকরি মেলেনি। টাকা ফেরত চাইলে তা দেওয়া হয়নি। অবশেষে ওই ব্যক্তি অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
অন্যদিকে সুমিত রায় ইতিমধ্যেই আগাম জামিনের আর্জি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। ওই মামলার শুনানি এখনও শুরু হয়নি। তার মধ্যেই নতুন করে ডেবরা থানায় প্রতারণার অভিযোগ দায়ের হয়েছে। শালবনি থানায় জমি দুর্নীতির মামলা দায়ের হয়েছে। গ্রেপ্তার হন মেদিনীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরা। তাঁকে জেরা করতেই উঠে আসে সুমিত রায়ের নাম। এবার খড়গপুর মহকুমার অর্ন্তগত ডেবরা থানায় নতুন অভিযোগ দায়ের হলো। নতুন অভিযোগে রয়েছে প্রতারণা, জালিয়াতির মতো ঘটনা। সুমিত রায়ের খোঁজে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছিল শালবনি থানার পুলিশ। কিন্তু খোঁজ মেলেনি।
তাছাড়া সুমিত রায় এখন কোথায় গা-ঢাকা দিয়ে রয়েছে তা পুলিশও জানতে পারেনি। ডেবরার ত্রিলোচনপুরের বাসিন্দা প্রসেনজিৎ রায় পুলিশকে লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, ২০২৩ সালে সুজয় হাজরা তাঁকে জানান, ১২টি সরকারি পদে চাকরি রয়েছে। ১২ জনকে সেটা দিতে পারবেন। পরিবর্তে ১২ লক্ষ টাকা দিতে হবে। তিনি ধার করে টাকার ব্যবস্থা করেন। ডেবরার একটি হোটেলে সুজয়ের সঙ্গে দেখা করেন। সুজয় পরিচয় করিয়ে দেন হাওড়ার নলপুরের এক বাসিন্দার সঙ্গে। তিনি নিজেকে নবান্নের কর্মী বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। সুজয় নিজের কাছে ২ লক্ষ টাকা রেখে বাকি ১০ লক্ষ টাকা ওই কর্মীকে দিয়ে দেন। এই বিষয়ে তৃণমূলের বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘সুমিত রায় সম্পর্কে যা বলার আগে বলেছি। আমি তৃণমূলের মুখপাত্র, সুমিত রায়ের নই। তাই ওঁকে নিয়ে কিছু বলব না। আইন আইনের মতো চলবে।’




