• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 8 August, 2026

লুকোচুরি শেষ, সুপ্রিম কোর্টের রক্ষাকবচ নিয়ে ভবানীভবনে অভিষেকের আপ্তসহায়ক

কিছুদিন আগে সুমিতের বিরুদ্ধে জমি দুর্নীতির অভিযোগ দায়ের হয়েছিল শালবনি থানায়। ওই মামলাতেই তাঁকে খুঁজতে অভিষেক

লুকোচুরি শেষ, সুপ্রিম কোর্টের রক্ষাকবচ নিয়ে ভবানীভবনে অভিষেকের আপ্তসহায়ক

Abhishek Banerjee PA Sumit Roy Photo-SNS

শনিবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যে ৬টার মধ্যে ভবানীভবনে হাজিরার নোটিস পাঠানো হয়েছিল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে। নির্ধারিত সময়ের ৬ মিনিট আগেই এদিন এসে হাজিরা দিলেন সুমিত রায়। সিআইডি সূত্রে খবর, পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনির জমি প্রতারণা মামলায় তাঁকে তলবের নোটিস দেওয়া হয়। সেই তলবে সাড়া দিয়ে এদিন নির্ধারিত সময়ের আগেই ভবানীভবনে পৌঁছন সুমিত। তাঁর বয়ান রেকর্ড করেন গোয়েন্দারা। এই সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। আর তাই তিনি গা-ঢাকা দিয়ে আইনজীবী মারফত আদালতের দুয়ারে কড়া নাড়ছিলেন।

সুপ্রিম কোর্টের রক্ষাকবচ পেয়েই এবার লুকোচুরি শেষ করে সিআইডি অফিসারদের সামনে এলেন। দীর্ঘদিন ‘গা-ঢাকা’ দিয়ে সময়ের অপেক্ষা করছিলেন এই সুমিত রায়। জমি দুর্নীতি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট থেকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ পেতেই সুমিত রায় সিআইডি দপ্তরে হাজিরা দিলেন। শনিবার ভবানীভবনে পৌঁছে তিনি জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন। শুক্রবার হাজিরার নোটিস পেয়ে শনিবার সিআইডি দপ্তরে আসা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একাধিক মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়কের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। বহু আগে থেকেই তাঁর খোঁজ জারি রেখেছিল পুলিশ। কিন্তু সুমিতের হদিশ মেলেনি। অবশেষে নিজেই এসে সিআইডি সদর দপ্তরে হাজির হলেন সুমিত রায়।

টালিগঞ্জের মহাবীরতলায় সুমিত রায়ের বাড়ি। সেখানে গিয়ে সিআইডি টিম নোটিস দিয়ে এসেছিল। যদিও তিনি এদিন আসবেন তা আগাম কেউ অনুমান করতে পারেননি। সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে নতুন করে আরও দু’টি মামলা দায়ের হয়েছে। তাই রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন সুমিত। শুক্রবার তাঁর আইনজীবী সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে দ্রুত শুনানির আর্জি জানান। যা খারিজ হয়ে যায়। সুমিতের আইনজীবী কলকাতা হাইকোর্টে জানান, তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে ৪টি এফআইআর দায়ের হয়েছে। এটার আগে দু’টি এফআইআরের ক্ষেত্রে আগাম জামিন পেয়েছিলেন অভিষেকের আপ্তসহায়ক।

কিছুদিন আগে সুমিতের বিরুদ্ধে জমি দুর্নীতির অভিযোগ দায়ের হয়েছিল শালবনি থানায়। ওই মামলাতেই তাঁকে খুঁজতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছিল পুলিশ। মাঝরাতে অভিষেকের বাড়ির তালা ভেঙে সুমিতের খোঁজে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। কিন্তু তৃণমূল সাংসদের আপ্তসহায়কের খোঁজ মেলেনি। এদিকে কলকাতা হাইকোর্টের রক্ষাকবচের মামলা খারিজ হয়ে যেতে সুমিত রায় ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন। সর্বোচ্চ আদালত জানিয়ে দেয়, পরবর্তী শুনানির দিন পর্যন্ত সুমিত রায়কে গ্রেপ্তার করা যাবে না। তবে তিনি তদন্তে সহযোগিতা করবেন। আর শনিবারই ভবানীভবনে সশরীরে হাজির হলেন সুমিত রায়।

অন্যদিকে সিআইডি দপ্তরে সুমিত রায় হাজিরা দিলেও আইনি জট কিন্তু পুরোপুরি কাটেনি তাঁর। তাঁর বিরুদ্ধে এখনও অতিরিক্ত দুটি পৃথক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক এখন জেলবন্দি। সুজয় হাজরাকে গ্রেপ্তারের পরই উঠে আসে সুমিত রায়ের নাম। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট পাইয়ে দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করেন সুমিত বলে অভিযোগ। আর শালবনিতে একটি জমি দুর্নীতি মামলাতেও অভিযুক্ত হিসেবে নাম সুমিত রায়ের নাম রয়েছে। তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না বলেই মেদিনীপুর আদালত সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং লুকআউট নোটিস জারি করেছিল। এখন দেখার জল কতদূর গড়ায়।