• facebook
  • twitter
Tuesday, 20 January, 2026

এসআইআর শুনানিতে হাজির শামি, ভোটাধিকার প্রমাণে দেখালেন নথি

প্রশ্ন উঠেছে, কেন জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটারকে শুনানিতে ডাকা হল? এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের তরফে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

শুনানিতে হাজির মহম্মদ শামি।

মহম্মদ শামি একজন জাতীয় দলের ক্রিকেটার। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের হয়ে খেলেছেন একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মতো মেগা টুর্নামেন্টে ভারতের জার্সি গায়ে ঝুড়ি ঝুড়ি উইকেট তুলে নিয়েছেন। তবু ভোটাধিকার প্রমাণ করতে তাঁকেও হাজির হতে হল এসআইআর শুনানিতে। শামিকে ঘিরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্য জুড়ে প্রবল চর্চা শুরু হয়েছে।

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই এসআইআর শুনানিতে শামির ডাক পড়তেই নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়। অবশেষে মঙ্গলবার দুপুরে যাদবপুরের বিক্রমগড় এলাকার কাটজুনগর স্বর্ণময়ী বিদ্যাপীঠে হাজির হন জাতীয় দলের এই ক্রিকেটার। নির্ধারিত শুনানিতে যাওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে ছিল যাবতীয় প্রয়োজনীয় নথি ও প্রমাণপত্র।

Advertisement

বর্তমানে রাসবিহারী বিধানসভার অন্তর্ভুক্ত কলকাতা পুরসভার ৯৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার মহম্মদ শামি। তবে যে সময়ে তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল, সেই সময় তিনি বাংলার হয়ে খেলার সূত্রে রাজ্যের বাইরে ছিলেন। সেই কারণেই নির্দিষ্ট দিনে শুনানিতে হাজির হতে পারেননি বলে জানা গিয়েছে।

Advertisement

মঙ্গলবার বিক্রমগড়ে শুনানিতে গিয়ে শামি নথি হিসেবে নিজের পাসপোর্ট জমা দেন। প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, ‘এসআইআর-কে কখনও উপেক্ষা করা উচিত নয়। এসআইআর ভাল বিষয়। ডাক পড়লে আপনাদেরও আসা উচিত। নাম সংশোধনের বিষয়টি অবশ্যই দরকারি। যতবার ডাকবে ততবার আসব। আমাকে কোনও সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়নি। সবাই আমাকে খুব সাহায্য করেছে।’

শুধু শামি নন, তাঁর সঙ্গে শুনানিতে হাজির ছিলেন ভাই মহম্মদ কাইফও। তিনিও বাংলার হয়ে ক্রিকেট খেলেন এবং একইভাবে এসআইআর সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় অংশ নেন।

কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, কেন জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটারকে শুনানিতে ডাকা হল? এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের তরফে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, এসআইআর ফর্মের ‘লিঙ্কেজ’ কলামটি শামি পূরণ করেননি। নিয়ম অনুযায়ী, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় থাকা পরিবারের সদস্যদের নাম ওই কলামে উল্লেখ করতে হয়। শামির ফর্মে সেই তথ্য না থাকায়, অন্যান্য সাধারণ ভোটারদের মতোই তাঁকেও শুনানিতে ডাকা হয়।

নির্বাচন কমিশনের দাবি, এই বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। শামির ক্ষেত্রেও কোনও ব্যতিক্রম নয়, নিয়ম মেনেই তাঁকে শুনানিতে তলব করা হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে একদিকে যেমন এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, তেমনই ভোটাধিকার সংক্রান্ত নিয়মকানুন নিয়েও প্রশ্ন উঠছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

Advertisement