বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রচারে ঝড় তুলতে একদিনে তিন জেলায় জনসভা করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আজ বৃহস্পতিবার পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া, পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল এবং বীরভূমের সিউড়িতে তাঁর পরপর তিনটি সভা ঘিরে তৎপর ভারতীয় জনতা পার্টি।
সূচি অনুযায়ী, সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে হলদিয়া টাউনশিপে মাখনবাবুর বাজার সংলগ্ন হেলিপ্যাড ময়দানে প্রথম জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর দুপুর ১২টায় আসানসোলের পোলো গ্রাউন্ডের আউটডোর স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে দুপুর ২টায় সিউড়ির চাঁদমারি মাঠে তৃতীয় জনসভায় অংশ নেবেন তিনি।
Advertisement
তবে এই তিন কর্মসূচির মধ্যে আসানসোলের সভাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি। ইতিমধ্যেই জেলা থেকে বুথ স্তর পর্যন্ত প্রস্তুতি তুঙ্গে। লক্ষ্য একটাই— বৃহৎ জনসমাগম ঘটিয়ে শক্তি প্রদর্শন। এবারের প্রস্তুতিতে আবহাওয়াও বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে। এপ্রিলের তীব্র গরম ও কালবৈশাখীর সম্ভাবনা মাথায় রেখে সভাস্থলের বিস্তীর্ণ অংশ জুড়ে তৈরি করা হচ্ছে বিশাল শেড। যাতে রোদ বা বৃষ্টিতে সাধারণ মানুষের অসুবিধা না হয়, সেই দিকেই নজর রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানীয় জল, বসার জায়গা ও বিশ্রামের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
Advertisement
দলীয় নেতৃত্বের দাবি, শুধু আসানসোল নয়, আশপাশের একাধিক বিধানসভা কেন্দ্র থেকেও মানুষের ঢল নামবে এই সভায়। রাঢ়বঙ্গ অঞ্চলে এই জনসভার প্রভাব পড়বে বলেই মনে করছে বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁদের আশা, এক লক্ষেরও বেশি মানুষের উপস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পোলো গ্রাউন্ডকে বেছে নেওয়ার পিছনে রয়েছে কৌশলগত কারণও। শহরের কেন্দ্রস্থলে হওয়ায় যাতায়াত সহজ। পাশাপাশি অতীতেও এখানে প্রধানমন্ত্রীর একাধিক সভা হয়েছে। ফলে এই জায়গাটিকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থাও কড়া করা হচ্ছে। সেই লক্ষ্যে সভাস্থলে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিষেবার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। মেডিক্যাল টিম, প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র এবং অন্তত ১০টি অ্যাম্বুল্যান্স প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। জরুরি পরিস্থিতির জন্য নিকটবর্তী হাসপাতালগুলির সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হয়েছে।
ভিড় নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি ব্লক থেকে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁদের দায়িত্ব থাকবে মানুষকে সঠিকভাবে বসানো, জল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনে সাহায্য করা। সব মিলিয়ে, একদিনে তিনটি সভা করে রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই কর্মসূচি শুধু প্রচার নয়, বরং নির্বাচনের আগে শক্তি প্রদর্শনের বড় মঞ্চ হিসেবেই দেখছে বিজেপি।
Advertisement



