দুর্গাপুজোয় রাজনীতিকরণ প্রবেশ করুক তা চান না বিজেপি নেতারা। সে কথা আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর সঙ্গে সহমত পোষণ করেছিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। এবার দলের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে চলেছেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। সামনেই দুর্গাপুজো। আর মাসখানেক সময় আছে। সেখানে বহু বড় পুজো কমিটিগুলিই নেতা, মন্ত্রীদের দিয়ে উদ্বোধন করাতে চায়। তৃণমূল আমলে এই ছবিই বারবার দেখা গিয়েছে। সেখানে নতুন বিজেপি সরকারের পর্যটনমন্ত্রী তথা পরিষদীয়মন্ত্রী দলের নির্দেশ মেনে নিয়ে কোনও পুজো উদ্বোধন করবেন না বলে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন।
শিলিগুড়ি থেকে শুরু করে কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি-সহ উত্তরবঙ্গের নানা জেলায় বিগ বাজেটের দুর্গাপুজো হয়। ভিড়ও হয় ভালই। এমন সব পুজো কমিটিগুলি আশা করেছিলেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী তাঁদের জেলার হওয়ায় তাঁকে দিয়েই উদ্বোধন করবেন পুজোগুলি। কিন্তু তাতে রাজি নন শঙ্কর ঘোষ। ইতিমধ্যেই গণেশ পুজোর উদ্বোধনে মেতে উঠেছেন বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা থেকে শুরু করে অর্থ ও পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন। কিন্তু সেখানেও দেখা যায়নি শঙ্কর ঘোষকে। আসলে তিনি প্রচলিত স্রোতে গা ভাসাতে রাজি নন। তাই এমন পদক্ষেপ করেছেন।
এখানেই শেষ নয়, রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী কোনও পুজোর উদ্বোধন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এমনকী কোনও ক্লাব বা পুজো কমিটির সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত থাকবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। তার জেরে গণেশপুজো থেকে শুরু করে দুর্গাপুজো যেসব ক্লাব এবং সংগঠন তাঁকে উদ্বোধক হিসাবে রাখার পরিকল্পনা করেছিল এখন তাঁদের সকলকেই সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হচ্ছে। গোটা রাজ্যেই নানা পুজো কমিটির সঙ্গে বিজেপি নেতাদের যোগ রয়েছে। তাই তাঁরা কেউ উদ্বোধন করবেন, কেউ উপস্থিত হয়ে পাশে থাকবেন এবং কেউ কেউ পুজো কমিটির সঙ্গেও জড়িত। এই পথে নেই শঙ্কর ঘোষ।
তাছাড়া এই পরিস্থিতিতে অনেকেই শঙ্করবাবুকে আক্রমণ করেছেন। কেউ নাস্তিক বলেছেন, কেউ বলেছেন সমাজের উৎসবে যুক্ত না হওয়া ভাল বিজ্ঞাপন নয়-সহ নানা কথা। কিন্তু রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমি কোনও পুজো উদ্বোধন করব না। জনপ্রতিনিধি বা মন্ত্রী হিসাবে আমি কোনও পুজোর উদ্বোধন করব না। এমনকী কোনও পুজো কমিটিতেও আমার নাম থাকবে না। তবে বিধায়ক হিসাবে পুজোর সময় আমি মানুষের সঙ্গে থাকব। নানা মণ্ডপে যাব এবং পরিবারের সঙ্গে প্রতিমা দর্শন করব। উৎসবে অংশও নেব। বিরোধী দলের বিধায়ক হিসাবে গত ৫ বছর আমি দেখেছি জনপ্রতিনিধি বা মন্ত্রীকে পুজোর উদ্বোধক করা হলে অনেকেরই গাত্রদাহ হয়। আমি কারও গাত্রদাহের কারণ হতে চাই না। তাই কোনও পুজোর উদ্বোধক হবো না। জাঁকজমক করে পুজো করে এলাকার প্রভাবশালী হওয়ার প্রবণতা পছন্দ করি না। সকলেই যাতে আনন্দ করে অংশগ্রহণ করতে পারেন, সেটাই আমার লক্ষ্য।’




