কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সেকেন্ডারি রানওয়ের কাছে অবস্থিত একটি মসজিদকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ এবং উড়ান নিরাপত্তার স্বার্থে ওই মসজিদ স্থানান্তরের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক সৌরভ সিকদার। তবে এখনও এ বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন।
শুক্রবার বারাসতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সৌরভ সিকদার বলেন, বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের পথে ওই মসজিদ একটি গুরুত্বপূর্ণ বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর দাবি, শুধু রানওয়ে সম্প্রসারণই নয়, উড়ান নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও এটি একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। তিনি বলেন, ‘এখানে অনেক আলোচনা চলছে। উন্নয়নের স্বার্থে বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। রানওয়ের সম্প্রসারণে সমস্যা হচ্ছে। শুধু সম্প্রসারণ নয়, নিরাপত্তা ও সুরক্ষার ক্ষেত্রেও এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ।’
Advertisement
বিজেপি বিধায়কের দাবি, সম্প্রতি বারাসতের জেলা শাসকের দপ্তরে একটি যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই বৈঠকে প্রশাসনের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি মসজিদ কমিটির সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির মতামত শোনা হয়েছে। সৌরভ সিকদার জানান, মসজিদ কমিটির প্রতিনিধিদেরও পরিস্থিতির কথা ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে।
Advertisement
তিনি আরও দাবি করেন, যে জমির উপর মসজিদটি অবস্থিত, তার মালিকানা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের অধীনে। তাঁর বক্তব্য, ‘মসজিদটি যে জমিতে রয়েছে, সেটি এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার জমি। কারণ এটি রানওয়ের মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থিত।’ যদিও এই দাবি নিয়ে এখনও পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে আনুষ্ঠানিক কোনও মন্তব্য সামনে আসেনি।
প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই দিল্লিতে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী রাম মোহন নাইডুর সঙ্গে বৈঠক করেন সৌরভ সিকদার। সেই বৈঠকে তিনি কলকাতা বিমানবন্দরের সামগ্রিক উন্নয়ন, আধুনিকীকরণ এবং দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আদলে একটি ‘এরোসিটি’ গড়ে তোলার দাবি জানান। তাঁর মতে, কলকাতা বিমানবন্দরের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক বিকাশ এবং ভবিষ্যতের যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জমি এবং পরিকাঠামোগত নানা বিষয় সামনে আসতে পারে। ফলে মসজিদ স্থানান্তর নিয়ে চলমান আলোচনা আগামী দিনে আরও গুরুত্ব পেতে পারে। তবে বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলি আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান খোঁজার চেষ্টা করছে বলে জানা গিয়েছে।
Advertisement



