• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 4 July, 2026

মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে হাজির বহু মানুষ, ন্যায় বিচারের আশায় এলেন বরুণ বিশ্বাসের পরিবারও

তাঁদের অভিযোগ, নিয়োগের পর একাধিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ফলে তাঁদের পদমর্যাদা ও চাকরির অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে, যার ফলে দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁরা আবেদন জানান।

মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে হাজির বহু মানুষ, ন্যায় বিচারের আশায় এলেন বরুণ বিশ্বাসের পরিবারও

Photo: Subham Bose

প্রতি সপ্তাহের মতো শনিবারও সল্টলেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্যোগে আয়োজিত ‘জনতার দরবার’-এ হাজির হন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বহু মানুষ। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে সেখানে এলেন নিহত বরুণ বিশ্বাসের দাদা এবং দিদি। সুটিয়ার প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাসের খুনের ঘটনায় নির্দিষ্ট টিম গঠন করে তদন্ত হবে বলে আগেই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন সেই ন্যায় বিচারের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে এসে উপস্থিত হয়েছেন বরুণ বিশ্বাসের পরিবার।

প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত অভিযোগ, চাকরির জটিলতা, আর্থিক সহায়তার আবেদন ও সরকারি প্রকল্প সংক্রান্ত সমস্যার কথা এদিন সাধারণ মানুষ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, সাধারণ মানুষের অভিযোগ দ্রুত সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়াই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।

এদিন জনতার দরবারে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার চম্পাহাটির শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রসূন মণ্ডল। দুর্ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত হওয়ার পর থেকে এসএসকেএম হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। বর্তমানে কর্মসংস্থানের অভাবে তিনি সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। জীবিকা নির্বাহের জন্য একটি সরকারি চাকরির আবেদন নিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হন।

সেই সঙ্গে দক্ষিণ ২৪ পরগনার দেবাশীষ বিশ্বাস জানান, প্রাথমিক শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের দীর্ঘ ১৬ বছর পরেও তিনি এখনও বিদ্যালয়ে যোগদানের অনুমতি পাননি। দীর্ঘদিনের এই প্রশাসনিক জটিলতার অবসান চেয়ে তিনি জনতার দরবারে আবেদন জানান।

কৃষি দপ্তরের ‘কৃষি আত্মা’ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মীরাও এদিন তাঁদের অভিযোগ তুলে ধরেন। তাঁদের দাবি, প্রকল্পের প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। অনৈতিকভাবে বদলি করা হচ্ছে এবং প্রাপ্য আর্থিক সুবিধাও সময়মতো দেওয়া হচ্ছে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আর্জি জানান তাঁরা।

পূর্ব মেদিনীপুরের এগরা এলাকার দুই মহিলার অভিযোগ, চাকরির জন্য তাঁদের নাম প্রকাশিত হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁরা যোগদানের সুযোগ পাননি। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দ্বারস্থ হলেও সমাধান না হওয়ায় তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

বসিরহাটের একটি গণপতি উৎসব কমিটি ট্রাস্টের প্রতিনিধিরা পাঁচ বছরের এক শিশুকে নিয়ে জনতার দরবারে আসেন। শিশুটির জরুরি লিভার প্রতিস্থাপনের জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন হলেও পরিবারের পক্ষে সেই খরচ বহন করা সম্ভব নয়। তাই সরকারি আর্থিক সহায়তার আবেদন জানানো হয়।

এছাড়াও ২০০৯-১০ সালে সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত একদল কলেজ শিক্ষক তাঁদের চাকরির মর্যাদা ও পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তাঁদের অভিযোগ, নিয়োগের পর একাধিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ফলে তাঁদের পদমর্যাদা ও চাকরির অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে, যার ফলে দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁরা আবেদন জানান।

নদিয়ার নাকাশিপাড়ার বাসিন্দা পিয়ালী মণ্ডলও এদিন জনতার দরবারে উপস্থিত হন। তাঁর স্বামী দমকল বিভাগে কর্মরত ছিলেন। তিনি ২০২৪ সালে প্রয়াত হন। পরিবারের আর্থিক সংকটের কথা তুলে ধরে স্বামীর কর্মস্থলে তিনি চাকরির আবেদন জানান।