মঙ্গলবার থেকেই নির্বাচনী ময়দানে পূর্ণোদ্যমে নামছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তরবঙ্গকে বরাবরই শুভ সূচনা হিসেবে বেছে নেওয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এদিন তাঁর সফর শুরু হচ্ছে চালসা থেকে। প্রথম দিনে বড় জনসভা না থাকলেও, একটি গির্জায় গিয়ে স্থানীয় প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করবেন তিনি—যা তাঁর সর্বধর্ম সমন্বয়ের রাজনৈতিক বার্তাকেই আরও জোরদার করবে। বুধবার ময়নাগুড়ি থেকে শুরু হবে তাঁর টানা জনসভা, যা পরবর্তী একমাস ধরে উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম—সমগ্র বাংলাজুড়ে বিস্তৃত থাকবে।
তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীর এই সফর শুধুমাত্র প্রচার নয়, বরং চতুর্থবার ‘মা-মাটি-মানুষ’ সরকারের লক্ষ্যে এক বিস্তৃত রাজনৈতিক অভিযান। উত্তরবঙ্গে উন্নয়ন সত্ত্বেও প্রত্যাশিত নির্বাচনী সাফল্য না মিললেও, তিনি আশাবাদী। তাই আবারও তিস্তা-তোর্সা-মহানন্দা অঞ্চলের জনসংযোগ দিয়েই প্রচারযাত্রার সূচনা।
Advertisement
অন্যদিকে, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও একই দিনে দক্ষিণবঙ্গ থেকে প্রচার শুরু করছেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমায় দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে জনসভা দিয়ে তাঁর কর্মসূচির সূচনা। এরপর নন্দীগ্রাম-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে সভা করে তিনি উত্তরবঙ্গেও প্রচারে যোগ দেবেন। মাসজুড়ে তাঁরও টানা কর্মসূচি রয়েছে।
Advertisement
এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের লড়াই মূলত কেন্দ্রের শাসক দল এবং ভারতের নির্বাচন কমিশন-এর বিরুদ্ধে—এমনটাই রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত, যা সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত পৌঁছেছে, সেই প্রেক্ষাপটও প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠছে।
সব মিলিয়ে, উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান তুলে ধরা এবং কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ‘প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি’-র অভিযোগকে সামনে রেখে, তৃণমূল কংগ্রেস এবার সুসংগঠিত ও আক্রমণাত্মক প্রচার কৌশল নিয়েই ভোটযুদ্ধে নামছে।
Advertisement



