রাজ্যজুড়ে চলছে বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া। এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বার বার সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরে যাওয়ার কথা তৃণমূল নেত্রীর। ফলে রবিবারই দিল্লি পৌঁছেছেন মমতা। বুধবার বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে রাজ্যের এসআইআর মামলার শুনানি রয়েছে। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, তিনি নিজে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে এসআইআর-এর বিরুদ্ধে সওয়াল করবেন।
তার আগেই সোমবার নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরে যাওয়ার কথা জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। রবিবার দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে দমদম বিমানবন্দরে তিনি জানান, সোমবার বিকেল ৪টে নাগাদ তাঁদের কমিশন সময় দিয়েছে। দিল্লি সফরের কর্মসূচিও জানিয়েছেন মমতা।
Advertisement
দিল্লি গিয়ে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করবেন তিনি। এছাড়া দলের সাংসদদের সঙ্গেও দেখা করবেন বলে জানিয়েছেন মমতা। সেই সঙ্গে রাজ্যে এসআইআর-এর নামে যে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে ধ্বংস করা হচ্ছে তা সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। দিল্লিতে কোন কোন বিরোধী দলের নেতা-নেত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন সে বিষয়ে অবশ্য তিনি কিছু জানাননি।
Advertisement
সোমবার বিকেল ৪টে নাগাদ মমতা ও অভিষেক দিল্লিতে কমিশনের সদর দপ্তর নির্বাচন সদনে যাবেন। এছাড়া দলের কয়েকজন সাংসদও যাবেন বলে জানা গিয়েছে। এসআইআর আতঙ্কে মৃ্ত্যুর অভিযোগ উঠেছে রাজ্যে। সেই সব মৃতদের পরিবারের কয়েকজন সদস্যও তৃণমূলের প্রতিনিধি দলে থাকতে পারেন বলে খবর। কমিশনের দপ্তরে থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হবেন বলেও রবিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন।
অক্টোবরের শেষ থেকে শুরু হয়েছে এসআইআর প্রক্রিয়া। ৪ নভেম্বর থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে শুরু হয়েছে এনুমারেশন ফর্ম বিলি করা। সেদিনই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতার রাজপথে এসআইআরের প্রতিবাদে মিছিল করেন। এর পর এসআইআরের প্রক্রিয়া যত এগিয়েছে তত প্রক্রিয়াগত ত্রুটি নিয়ে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী-সহ শাসক দল। সেই বিষয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পাঁচটি চিঠিও লিখেছেন মমতা। শনিবার ফের এসআইআরের কাজ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে ষষ্ঠ চিঠিটি দিয়েছেন তিনি।
ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে কমিশন যে পদ্ধতি ও দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করছে, তা জনপ্রতিনিধিত্ব আইন এবং তার অধীনে প্রণীত বিধি-বিধানের সীমা অতিক্রম করেছে বলে ষষ্ঠ চিঠিতে অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই প্রক্রিয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে অযথা হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলেও চিঠিতে অভিযোগ করেন তিনি।
ভোটের আগে নির্বাচন কমিশন এবং বিভিন্ন এজেন্সিকে বিজেপি ব্যবহার করছে বলে এদিন অভিযোগ করেন মমতা। বিজেপি রাজনৈতিক ভাবে লড়াই করতে পারছে না বলেই অভিযোগ তাঁর। এই পদ্ধতি ব্যবহার করে গেরুয়া শিবির হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র জিতেছে বলে দাবি তাঁর। শুধু বাংলা নয়, কেরল, তামিলনাড়ু এবং আসামের বিধানসভার নির্বাচনেও বিজেপি হারবে বলে এদিন জানান তৃণমূল নেত্রী।
Advertisement



