• facebook
  • twitter
Sunday, 1 February, 2026

কেন্দ্রীয় বাজেট ঘিরে বিরোধীদের তোপ – দিশাহীন, অন্ধ বাজেট বলে কটাক্ষ

বিরোধীদের অভিযোগ, দেশের প্রকৃত যে সমস্ত সমস্যাগুলি রয়েছে যেমন বেকারত্ব, কৃষিক্ষেত্রে সঙ্কট, বিনিয়োগ হ্রাস ও ক্রয়ক্ষমতার পতন এই বাজেটে উপেক্ষিত হয়েছে

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট ঘিরে শুরু থেকেই সরব বিরোধীরা। তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, আম আদমি পার্টি-সহ একাধিক বিরোধী দল এই বাজেটকে দিশাহীন, ভিত্তিহীন, অন্ধ বলে কটাক্ষ করেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, দেশের প্রকৃত যে সমস্ত সমস্যাগুলি রয়েছে যেমন বেকারত্ব, কৃষিক্ষেত্রে সঙ্কট, বিনিয়োগ হ্রাস ও ক্রয়ক্ষমতার পতন এই বাজেটে উপেক্ষিত হয়েছে।

বাজেট ঘোষণার পর কংগ্রেস সাংসদ ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী তীব্র কটাক্ষ করেন। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, দেশের যুবসমাজ কাজের অভাবে ভুগছে, উৎপাদন কমছে, বিনিয়োগকারীরা পুঁজি তুলে নিচ্ছেন এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। কৃষকদের অবস্থাও শোচনীয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, ভবিষ্যতের সঙ্কটগুলিকে এড়িয়ে গিয়ে সরকার এমন একটি বাজেট পেশ করেছে যা দেশের প্রকৃত সমস্যাগুলির প্রতি ‘অন্ধ’। নীতি সংশোধনে সরকারের অনীহাই এই বাজেটে স্পষ্ট বলে অভিযোগ করেন তিনি।

Advertisement

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, মোদী সরকারের নতুন কিছু ভাবার ক্ষমতা নেই। তাঁর অভিযোগ, এই বাজেটে দেশের আর্থিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যার সমাধানের কোনও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নেই। নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গি ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Advertisement

কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ বাজেটের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, বাজেট নিয়ে আগে যে প্রচার হয়েছিল বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলির জন্য কত টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্যও স্পষ্ট নয় বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, বাজেট ‘করুণ এবং হতাশাজনক’।

সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব দিল্লিতে সাংবাদিকদের বলেন, এই সরকারের কাছ থেকে এমন বাজেটই প্রত্যাশিত ছিল। তাঁর মতে, বাজেটটি ধনী ও বিত্তশালীদের মন জয়ের চেষ্টা করেছে।

আম আদমি পার্টির রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় সিং সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করেছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বছরে ২ কোটি চাকরি, কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করা এবং কালো টাকা ফেরানোর প্রতিশ্রুতির কথা। তাঁর প্রশ্ন, এই প্রতিশ্রুতিগুলির কী হল?

ওড়িশার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেডি প্রধান নবীন পট্টনায়েকও বাজেট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য, বাজেটে ওড়িশার জন্য উল্লেখযোগ্য কোনও সুবিধা নেই। পরিকাঠামো উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বিষয়ে রাজ্যের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। পুরনো জাতীয় জলপথ প্রকল্পের ঘোষণা পুনরায় করা হলেও তার অগ্রগতি নেই বলেও দাবি করেন। ৭টি হাই-স্পিড রেল করিডোর ঘোষণায় ওড়িশার নাম না থাকায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।

সব মিলিয়ে, কেন্দ্রীয় বাজেট ঘিরে সোচ্চার বিরোধী শিবির। এই সমালোচনা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে রাজনৈতিক মহলে এই বাজেট নিয়ে মতভেদ তীব্র আকার নিয়েছে।

Advertisement