কলকাতার রেড রোডে ইদের নামাজের মঞ্চ থেকে আবারও এসআইআর (ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী) ইস্যুতে সরব হলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু নির্বাচন কমিশনই নয়, এ দিন তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-কেও নিশানা করেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, এসআইআর নিয়ে যে আন্দোলন তিনি শুরু করেছেন, তা ভবিষ্যতেও জোরদারভাবে চালিয়ে যাবেন।
ইদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য শুরু করলেও খুব দ্রুতই রাজনৈতিক সুর চড়ান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, এসআইআরের ফলে বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য তিনি হাই কোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত আইনি লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও সেই লড়াই অব্যাহত থাকবে। তাঁর কথায়, “মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, আর আমি তা মেনে নেব না।”
Advertisement
এরপর প্রধানমন্ত্রী মোদীর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান মমতা। তিনি দাবি করেন, দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিদেশ সফরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, বিদেশে গিয়ে বন্ধুত্বের বার্তা দেওয়া হলেও দেশে ফিরে বিভাজনের রাজনীতি করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, ধর্মের ভিত্তিতে বিভেদ তৈরির প্রচেষ্টা দেশের জন্য ক্ষতিকর। একই সঙ্গে বিজেপিকেও তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে তিনি বলেন, বাংলাকে টার্গেট করা হলে তার যোগ্য জবাব দেওয়া হবে।
Advertisement
এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য ছিল তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত, কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি সম্প্রীতি, ঐক্য এবং মানবতার বার্তা তুলে ধরেন। ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে সকলকে একসঙ্গে থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অভিষেক বলেন, “মানবতার জন্য আমাদের একজোট হতে হবে। বাংলার ঐতিহ্যই হল সম্প্রীতি।” তিনি আরও যোগ করেন, বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে কোনও বিভাজন নেই— বরং সেগুলি একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাঁর বক্তব্যে প্রতিফলিত হয় একতা ও সহাবস্থানের বার্তা।
সব মিলিয়ে, রেড রোডের ইদের মঞ্চ রাজনৈতিক বার্তায় ভরপুর ছিল। মুখ্যমন্ত্রীর কণ্ঠে প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধের সুর যেমন শোনা গেল, তেমনই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে উঠে এল ঐক্য ও সম্প্রীতির আহ্বান।
Advertisement



