ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি প্রসঙ্গে বুধবার সুপ্রিম কোর্ট কমিশনকে সতর্ক করেছে, বহিরাগত কোনও ভোটারের নাম যেন তালিকায় যুক্ত না হয়, সেটা দেখতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। শীর্ষ আদালতের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণকে সামনে রেখে স্বস্তির সুর শোনা গেল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়।
সভামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকেই আমাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেছিল। কিন্তু শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ দেখিয়ে দিল, সত্যিটা কী।’ তাঁর দাবি, রাজ্য সরকার সবসময় আইন মেনে কাজ করেছে এবং মানুষের স্বার্থেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
Advertisement
বীরভূমের নানুর বিধানসভা কেন্দ্রে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে আয়োজিত জনসভা থেকে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, আদালতের এই মন্তব্য প্রমাণ করে যে, সত্যের জয় অবশ্যম্ভাবী। একই সঙ্গে বিরোধীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে তিনি দাবি করেন, ‘মিথ্যা অপপ্রচার করে মানুষের মন ভোলানো যাবে না।’
Advertisement
সভামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকেই আমাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেছিল। কিন্তু শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ দেখিয়ে দিল, সত্যিটা কী।’ তাঁর দাবি, রাজ্য সরকার সবসময় আইন মেনে কাজ করেছে এবং মানুষের স্বার্থেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নানুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে তিনি অতীতের ঘটনাও স্মরণ করেন। নানুর গণহত্যার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘আমি তখন রেলমন্ত্রী ছিলাম। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমার দায়িত্ব ছিল।’ সেই সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, কীভাবে প্রশাসনিক বাধা পেরিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর ব্যবস্থা করেছিলেন।
এদিনের সভায় উন্নয়নকেও প্রধান ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু কথা বলি না, কাজ করি।’ গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন, রাস্তা নির্মাণ, পানীয় জল ও স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রসার—এই সব ক্ষেত্রেই রাজ্যের সাফল্যের কথা উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, এই উন্নয়নই আগামী নির্বাচনে তৃণমূলের প্রধান শক্তি হবে।
বিরোধীদের নিশানা করে তিনি বলেন, ‘ওরা শুধু মিথ্যা রটনা ছড়ায়। মানুষের পাশে থাকার কোনও ইতিহাস নেই।’ তাঁর কথায়, ভোটের আগে নানা অপপ্রচার চালানো হলেও সাধারণ মানুষ সব বুঝতে পারছেন এবং সঠিক জবাব দেবেন। যুব সম্প্রদায়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, রাজ্য সরকার তরুণদের জন্য একাধিক প্রকল্প চালু করেছে। ‘শুধু আর্থিক সাহায্য নয়, কর্মসংস্থানের পথও তৈরি করছি,’— বলেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নানুরের এই জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে একদিকে যেমন শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সুর শোনা গেল, তেমনই নির্বাচনের আগে বিরোধীদের বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও তীব্র করার ইঙ্গিতও মিলল। উন্নয়ন, জনসংযোগ এবং আইনি লড়াই—এই তিনকেই সামনে রেখে তৃণমূল যে নির্বাচনী ময়দানে নামতে চলেছে, তা এদিনের ভাষণেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
Advertisement



