মালদহের কালিয়াচক আবাসিক মিশনের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী নাজিমা খাতুনের রহস্যমৃত্যুর তদন্তে নতুন করে প্রশ্নের মুখে রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে পুনর্তদন্তের দায়িত্ব সিআইডির হাতে যাওয়ার প্রায় তিন বছর অতিক্রান্ত হলেও এখনও পর্যন্ত নিম্ন আদালতে তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত রিপোর্ট দাখিল হয়নি বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে তদন্তে অস্বাভাবিক বিলম্ব এবং তার কারণ জানতে ফের কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে মৃত ছাত্রীর পরিবার।
২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর মালদহের কালিয়াচক আবাসিক মিশনের হোস্টেলের পাঁচতলা থেকে পড়ে মৃত্যু হয় একাদশ শ্রেণির ছাত্রী নাজিমা খাতুনের। আবাসিক মিশন কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। তবে প্রথম থেকেই সেই দাবি মানতে অস্বীকার করে মৃতার পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে নাজিমাকে এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।
পুলিশ তদন্তের ভিত্তিতে ২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর মালদহের মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) নির্দেশ জারি করেন। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন মৃত ছাত্রীর বাবা নাজিমুল হক। তাঁর অভিযোগ ছিল, মেয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন পরিবারের সদস্যদের দেখা করতে দেওয়া হয়নি। মৃত্যুর পর এক শিক্ষক ফোন করে পরিবারের কাছে খবর দেন। অথচ ঘটনার একাধিক অসঙ্গতি থাকা সত্ত্বেও সঠিক তদন্ত না করেই পুলিশ চার্জশিট দাখিল করে।
মামলার শুনানিতে মৃতার পরিবারের আইনজীবী আশিসকুমার চৌধুরী আদালতে দাবি করেছিলেন, তদন্তে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর বয়ান নেওয়া হয়নি। এমনকি প্রথম চার্জশিটে সম্ভাব্য সব সাক্ষীর নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে।
এই প্রেক্ষাপটে ২০২৩ সালের ১৮ নভেম্বর কলকাতা হাইকোর্ট পুলিশি তদন্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে মামলার পুনর্তদন্তের নির্দেশ দেয় এবং সেই দায়িত্ব সিআইডির হাতে তুলে দেয়। বিচারপতি শম্পা দত্ত পাল পর্যবেক্ষণে বলেন, তদন্তে একাধিক ফাঁকফোকর রয়েছে এবং পরিবারের অভিযোগগুলি যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। আদালতের মতে, মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের স্বার্থে নতুন করে তদন্ত করা প্রয়োজন।
কিন্তু পরিবারের অভিযোগ, হাইকোর্টের নির্দেশের পরও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে নিম্ন আদালতে কোনও রিপোর্ট জমা পড়েনি। সেই কারণেই তদন্তে অযৌক্তিক বিলম্বের ব্যাখ্যা এবং তদন্তের বর্তমান অবস্থান জানতে ফের হাই কোর্টের শরণাপন্ন হতে চলেছেন পরিবার।




