• facebook
  • twitter
Tuesday, 5 May, 2026

খাতা খুললেও বেশিরভাগ আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত বামেদের

জামানাত রক্ষা পেয়েছে বিকাশ, মীনাক্ষী এবং দীপ্সিতাদের

তরুণদের হাত ধরেই রাজনৈতিক খরা কাটবে—এই আশাতেই গত তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে বারবার যুব প্রজন্মের উপর ভরসা রেখেছে বামেরা। দলের প্রথম সারির প্রায় সব তরুণ মুখকেই প্রার্থী করা হয়েছিল। কিন্তু ফলাফলে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন মিলল না। এবারের নির্বাচনে তথাকথিত তরুণ প্রার্থীদের কেউই বিধানসভায় পৌঁছতে পারেননি। বরং তাঁদের অনেকেই ন্যূনতম ভোট পেতেও ব্যর্থ হয়ে জামানত হারিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, মোট প্রদত্ত ভোটের অন্তত এক-ষষ্ঠাংশ, অর্থাৎ প্রায় ১৬.৬৬ শতাংশ ভোট না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। প্রার্থী হওয়ার সময় যে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ (বিধানসভা নির্বাচনে ১০ হাজার টাকা) জমা রাখতে হয়, তা আর ফেরত পাওয়া যায় না।

Advertisement

তবে সম্পূর্ণ ব্যর্থতার ছবির মধ্যে ব্যতিক্রম হিসেবে উঠে এসেছেন ডোমকলের মুস্তাফিজুর রানা। তিনি প্রায় ১ লক্ষ ৭ হাজার ভোট পেয়ে মোট ভোটের প্রায় ৪১ শতাংশ অর্জন করেছেন। উল্লেখ্য, তিনি দলের অন্যান্য তরুণ মুখদের মতো আগে ততটা পরিচিত ছিলেন না।

Advertisement

জলঙ্গিতে সিপিএম প্রার্থী ইয়ানুস আলি সরকার প্রায় ২৭ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। খড়গ্রামে বামপ্রার্থী ধ্রুবজ্যোতি সাহা প্রায় ৪১ হাজার ভোট পেয়েছেন। রানিনগরে জামাল হোসেন এবং করণদিঘিতে হাজি শাহাবুদ্দিন অল্প ব্যবধানে নিজেদের জামানত রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছেন। শাহাবুদ্দিনের মোট প্রাপ্ত ভোট ৪০ হাজারের কম। হেরেছেন ৫০ হাজারের বেশি ভোটে।

অন্যদিকে, পরিচিত মুখদের মধ্যে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য প্রায় ১৭.৮১ শতাংশ ভোট পেয়ে কষ্টেসৃষ্টে জামানত বাঁচিয়েছেন। উত্তরপাড়ায় মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় প্রায় ২৫ শতাংশ ভোট পেয়ে তুলনামূলক ভালো লড়াই দিয়েছেন। দমদম উত্তরে দীপ্সিতা ধরও ১৭.২১ শতাংশ ভোট পেয়ে জামানত রক্ষা করেছেন।

তবে পানিহাটিতে কলতান, বরানগরে সায়নদীপ মিত্র এবং রাজারহাট নিউটাউনে সপ্তর্ষি দেব—এই তরুণ প্রার্থীরা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। তাঁদের ভোট শতাংশ যথাক্রমে ১৩.৭৩, ১১ এবং ১২.৭৭ হওয়ায় জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। সামগ্রিকভাবে, রাজ্যের অধিকাংশ আসনেই বাম প্রার্থীদের একই পরিণতি হয়েছে।

Advertisement