• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 24 June, 2026

এবার দুর্গাপুজোয় নতুনভাবে সেজে উঠছে কুমারটুলির ঘাট

শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি পোর্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ঘাটের তীরবর্তী অঞ্চলকে সম্পূর্ণ নতুন রূপে গড়ে তোলার কাজ করা হচ্ছে

কলকাতাবাসীর জন্য রয়েছে চমক। এবার দুর্গাপুজোয় নতুন সাজে সেজে উঠছে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী কুমারটুলির ঘাট। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি পোর্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ঘাটের তীরবর্তী অঞ্চলকে সম্পূর্ণ নতুন রূপে গড়ে তোলার কাজ করা হচ্ছে। পুজোর আগেই তা শেষ করার টার্গেট নেওয়া হয়েছে বলে খবর।

গত বছর শহর বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং আদানি পোর্টস অ্যান্ড স্পেশাল ইকোনমিক জোন লিমিটেডের মধ্যে একটি সমঝোতাপত্র স্বাক্ষর হয়। তারপরই এই পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। ২০২৫ সালের ১১ জুলাই এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার মাধ্যমে সিএসআর কর্মসূচির আওতায় কুমারটুলি ঘাটের সংস্কার কাজ শুরু হয়।

বন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই ঘাট চত্বরে থাকা ঐতিহ্যবাহী মন্দির ও বিভিন্ন ধর্মীয় পরিকাঠামো মেরামত ও পুনরুদ্ধারের কাজ শেষ হয়েছে। সংস্কারের ক্ষেত্রে ঐতিহ্য বজায় রাখতে বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি নদীর পাড়কে আরও মজবুত করা হয়েছে। ধর্মীয় আচার পালনের জন্য ব্যবহৃত প্ল্যাটফর্মগুলির উন্নয় ঘটানো হয়েছে এবং পথচারীদের জন্য নতুনভাবে হাঁটার রাস্তা তৈরি করা হয়েছে।

এছাড়াও শিল্পীদের জন্য নির্দিষ্ট এলাকা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মঞ্চ, বিনোদন ও নৌবিহারের ব্যবস্থা, দর্শন ডেক, ফুড কোর্ট, স্মারক সামগ্রীর দোকান এবং আধুনিক শৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছে। পুনর্গঠনের পর ঘাট এলাকায় সবুজায়নের উপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। নদীতীরবর্তী দেশীয় উদ্ভিদ রোপণ এবং বৃন্দাবনের অনুপ্রেরণায় গড়ে তোলা সবুজ বাগান এই প্রকল্পের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে।

ঘাট এবং কুমোরটুলির বিভিন্ন স্থানে আলোকসজ্জার কাজও শেষ হয়েছে। পাশাপাশি প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র এবং আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি পোর্টের চেয়ারম্যান রথেন্দ্র রমন জানিয়েছেন, ‘কুমারটুলি কলকাতার সাংস্কৃতিক আত্মার প্রতীক। এপিএসইজেড-এর সঙ্গে এই যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা শুধু পরিকাঠামোর উন্নয়ন করছি না। বরং পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানকে নতুন প্রাণ দিচ্ছি। এই প্রকল্প ঘাটকে আরও নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন এবং সকলের জন্য আকর্ষণীয় করে তুলবে’।

প্রায় ১০ কোটি টাকার এই প্রকল্প ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হচ্ছে। যাতে বিশে, করে দুর্গাপুজোর সময় সাধারণ মানুষের চলাচল বা ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে কোনও অসুবিধা না হয়। সব কাজ পুজোর আগেই শেষ করার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।