• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 30 June, 2026

ধর্মতলায় একুশে জুলাইয়ের সমাবেশে অনুমতি দিল না পুলিশ, দুই তৃণমূলেই ধাক্কা

গত রবিবার কালীঘাট তৃণমূলের কয়েকজন নেতা এবং কর্মী ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে গিয়ে রীতিমতো ফিতে দিয়ে মাপজোক শুরু করেন।

ধর্মতলায় একুশে জুলাইয়ের সমাবেশে অনুমতি দিল না পুলিশ, দুই তৃণমূলেই ধাক্কা

একুশে জুলাইয়ের ধর্মতলা চত্বর কারও নয়। ওখানে এবার সমাবেশ করা যাবে না। দুই তৃণমূলকেই এই কথা জানিয়ে দিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার লালবাজারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধর্মতলার মতো অত্যন্ত ব্যস্ত এলাকায় রাস্তা আটকে কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজনের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। কালীঘাট এবং ঋতব্রত— দুই তৃণমূলকেই এই কথা জানিয়ে দিল কলকাতা পুলিশ। একুশে জুলাই ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে ‘শহিদ দিবসের’ কর্মসূচি পালন করতে চেয়ে পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়েছিল তৃণমূলের দুই শিবিরই। আর দু’পক্ষের আবেদন খারিজ করে দিল কলকাতা পুলিশ।

এদিকে পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা জানিয়েছেন, ভিক্টোরিয়া হাউস এবং তার চারপাশে পূর্বের ফৌজদারি দণ্ডবিধির ১৪৪ ধারা জারি থাকে। এখনকার ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা অনুযায়ী এখানে জমায়েত করা নিষিদ্ধ। তাই ২১ জুলাই ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে শহিদ দিবস পালনের অনুমতি পাবে না কেউ। পুলিশের এই বার্তার পর বিকল্প স্থান খুঁজতে শুরু করেছে কালীঘাট তৃণমূল বলে সূত্রের খবর। প্রত্যেক বছর একুশে জুলাই ‘শহিদ দিবস’ পালন করা হয় ধর্মতলায়। রাজ্যে পালাবদলের পর দুই গোষ্ঠীতে ভাগ হয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর এবার দুই গোষ্ঠীই আবেদন করে অনুমতি পেল না।

অন্যদিকে গত রবিবার কালীঘাট তৃণমূলের কয়েকজন নেতা এবং কর্মী ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে গিয়ে রীতিমতো ফিতে দিয়ে মাপজোক শুরু করেন। তার জেরে তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশ। এই মাপজোক করতে গিয়েছিলেন কুণাল ঘোষ, দোলা সেন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। তাঁদের কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, ‘ফিতে নিয়ে মাপতে চলে গিয়েছেন! কোথায় সভা করবেন বলে দেব। আপনাদের সভায় অনেক লোক হবে। লক্ষ লক্ষ। ব্রিগেডে চলে যান! গিয়েছিলেন তো একবার। কী ভাবে ব্যস্ত রাস্তার উপর এই ধরনের কাজ করা হলো?’

তাছাড়া ১৯৯৩ সালে যুব কংগ্রেস কর্মীদের মহাকরণ অভিযানে তৎকালীন সরকারপক্ষের গুলিচালনায় ১৩ জনের নির্মম মৃত্যু হয়েছিল। তখন থেকে এই ঘটনাকে স্মরণে রেখে শহিদ দিবস কর্মসূচি করে তৃণমূল কংগ্রেস। আর ঘটনাস্থল ওই জায়গায় বলে সেখানেই শহিদ দিবস উদযাপন করা হয়। কিন্তু এই বছর ব্যতিক্রম হতে চলেছে। ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে ২১ জুলাইয়ের অনুষ্ঠানে ‘না’ বলে দিয়েছে পুলিশ। এই বিষয়ে সাংসদ দোলা সেন বলেছেন, ‘আইন ও বিচারব্যবস্থার উপর আস্থা আছে আমাদের। আমরা ৩৩ বছর ধরে এখানেই ২১ জুলাই পালন করে থাকি। এটা শহিদ-তর্পণ। একবেলা বন্ধ থাকে ধর্মতলা। এই জায়গা বাদ দিয়ে অন্য কোথায় করা হবে কিনা তা নিয়ে আলোচনা করছি দলের মধ্যে।’ আর ঋতব্রত শিবিরের আখরুজ্জামান জানান, ‘আমরা আইন নিজের হাতে তুলে নেব না। নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছি। দরকারে পুলিশের কাছে আবারও আবেদন জানাব।’