বেশ বিড়ম্বনায় পড়লেন কাজল শেখ। অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছিল জেলা পরিষদে। কিন্তু ভোটাভুটির একদিন আগেই ইস্তফা দিলেন কাজল শেখ। এখন বীরভূমে চরমে উঠেছে গোষ্ঠীকোন্দল। আর তার জেরে জেলা পরিষদ থেকে মুছে গেল কাজল শেখের নাম। ইতিমধ্যেই কাজল শেখ ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন বর্ধমান ডিভিশনাল কমিশনারের কাছে। ইস্তফাপত্র গৃহীত হয়েছে বলেও সূত্রের খবর। আগামী পাঁচদিনের মধ্যে জেলা পরিষদের এক্সিকিউটিভ অফিসারকে সমস্ত দায়িত্বভার বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাজল শেখের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিয়েছেন জেলা পরিষদের ১৯ জন তৃণমূল সদস্য। আর তাতেই বিড়ম্বনায় পড়ে এমন পদক্ষেপ করলেন ঋতব্রত গোষ্ঠীতে যাওয়া কাজল শেখ।
১৯ জন তৃণমূল সদস্য কাজলের বিরুদ্ধে যে অনাস্থা প্রস্তার এনেছেন শুক্রবার ওই প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে। ঠিক তার আগের দিনই ইস্তফা দিলেন হাসনের তৃণমূল বিধায়ক ফয়জুল হক ওরফে কাজল শেখ। বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের টিকিট-প্রতীকে জিতলেও ঋতব্রত শিবিরে যোগ দেন কাজল শেখ। তারপর থেকে জেলায় এবং নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন কাজল। যার জন্য তাঁর গাড়িতে ডিম মারা থেকে শুরু করে চোর চোর স্লোগান দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় নেতৃত্বের মতে, সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলা পরিষদ সদস্য যে তার বিরুদ্ধে অনাস্থায় ভোট দেবেন সেটা বুঝতে পেরেই ইস্তফা দিয়েছেন কাজল শেখ।
বীরভূম জেলা পরিষদে মোট সদস্য সংখ্যা ৫২। তার মধ্যে ৫১ জন তৃণমূলের আর একজন কংগ্রেসের। তৃণমূলের এক সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। তাই তাদের সদস্যসংখ্যা এখন ৫০ হয়েছে। অনুব্রত গোষ্ঠীর ১৮ জন জেলা পরিষদ সদস্য কয়েকদিন ধরেই একটি হোটেলে গা-ঢাকা দিয়েছিলেন। সেখানেই গোপনে বৈঠক হয়। বুধবার রাতে কাজল ঘনিষ্ঠ প্রায় ১৬ জন সদস্য তাঁকে জানিয়ে দেন, তাঁদের পক্ষে আর সমর্থন করা সম্ভব নয়। ঋতব্রত শিবির থেকেও কাজলের উপরে গত এক সপ্তাহ ধরে চাপ তৈরি হয়েছিল। একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে চাপে পড়ে যান কাজল শেখ। কোটি কোটি টাকার প্রকল্প টেন্ডার হয়েছে। তাতেই উঠেছে দুর্নীতির অভিযোগ। কারণ কাজ সেই মর্মে হয়নি। ক্যাগ রিপোর্ট নিয়ে চরম বিপাকে পড়ে যান কাজল বলে সূত্রের খবর।
তাছাড়া বীরভূম জেলা পরিষদের ১৯ সদস্য অভিযোগ করেছেন, বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে আর জেলা পরিষদের অফিসে আসেননি কাজল শেখ। তার জেরে নানা প্রশাসনিক কাজ আটকে রয়েছে। সাধারণ মানুষ পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। থমকে গিয়েছে স্থায়ী সমিতির বৈঠকও। জেলা পরিষদের কাজকর্ম যাতে স্বাভাবিকভাবে চলে সেটা নিশ্চিত করতেই এই অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছে। সব মিলিয়ে সাঁড়াশি চাপে পড়ে ইস্তফা দেন কাজল শেখ। এই ঘটনা নিয়ে বেলেঘাটার বিধায়ক তথা তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘ওদিকে তো সব ভাল তৃণমূল। তাহলে ভালদের মধ্যে এত গুঁতোগুঁতি কেন? আসলে সবটাই পুলিশকে দিয়ে ধমকানি-চমকানির রাজনীতি চলছে।’




