• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 8 July, 2026

নতুন সরকারের আমলেই রাজ্যে প্রথমবার পা রাখছে ‘মিতসুবিশি’

নবান্নে মিতসুবিশি কর্পোরেশনের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। বৈঠকে বিনিয়োগ, শিল্প সহযোগিতা এবং পশ্চিমবঙ্গে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

নতুন সরকারের আমলেই রাজ্যে প্রথমবার পা রাখছে ‘মিতসুবিশি’

Photo: Statesman

পালাবদলের পরেই রাজ্যে বিনিয়োগের ঢেউ। জাপানের শিল্পগোষ্ঠী মিতসুবিশি পশ্চিমবঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন কেন্দ্র গড়তে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বুধবার নবান্নে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত এবং অর্থসচিব প্রভাত মিশ্রের সঙ্গে মিতসুবিশির প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এই আগ্রহের কথা জানানো হয়। রাজ্য সরকারের তরফে দুর্গাপুর ও পানাগড়ে প্রকল্পের জন্য জমির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে সংস্থার প্রতিনিধিরা সম্ভাব্য জমি পরিদর্শনে আসবেন। তার পরেই প্রকল্প নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় জানিয়েছেন। তবে সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিমাণ বা জমির আয়তন সম্পর্কে এখনও কিছু জানানো হয়নি।

কলকাতার তাজ বেঙ্গল হোটেলে মার্চেন্টস চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় বলেন, ‘পূর্ব ভারতে পশ্চিমবঙ্গকে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিনিয়োগের গন্তব্যে পরিণত করাই নতুন রাজ্য সরকারের প্রধান লক্ষ্য।’ তিনি জানান, ঐতিহ্যবাহী পাট ও চা শিল্পের আধুনিকীকরণের পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সেন্টার এবং গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টারের মতো উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে বিশেষ জোর দেওয়া হবে।

শিল্পমন্ত্রী জানান, খুব শীঘ্রই রাজ্যের নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করা হবে। শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে সিঙ্গল উইন্ডো ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা, শিল্প করিডর ও শিল্প ক্লাস্টারের উন্নয়ন এবং ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকার অগ্রাধিকার দেবে।

তাপস রায় বলেন, ‘রাজ্যে শিল্পের পুনর্জাগরণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানোই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।’ এর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্টার্ট-আপ, ডেটা সেন্টার এবং গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার গড়ে তুলতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

শিল্পমন্ত্রী ব্যবসায়ী মহলকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘শিল্প ও ব্যবসাকে তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজ থেকে সুরক্ষা দেওয়া হবে। সরকারের সঙ্গে শিল্পমহলের সম্পর্ক হবে উন্নয়নের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে।’ তাঁর কথায়, পশ্চিমবঙ্গকে আবারও দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। নবান্নে মিতসুবিশি কর্পোরেশনের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। বৈঠকে বিনিয়োগ, শিল্প সহযোগিতা এবং পশ্চিমবঙ্গে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রাজ্যে আরও শিল্প ও বিনিয়োগের পরিবেশ গড়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদী।