• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 20 August, 2026

প্রেমিকের সঙ্গে থাকতে চাই, নন্দীগ্রাম থানায় গিয়ে বাবা-মা-স্বামীর বিরুদ্ধে এফআইআর বধূর

তবে ঘটনা এখানেই শেষ নয়, প্রেম শুধু সমাজমাধ্যমে এখন আর আটকে নেই। তা আরও মাখো মাখো হয়ে উঠেছে। কিন্তু ১২ বছর আগে

প্রেমিকের সঙ্গে থাকতে চাই, নন্দীগ্রাম থানায় গিয়ে বাবা-মা-স্বামীর বিরুদ্ধে এফআইআর বধূর

Extra Marital Affairs Photo-Representative

বিবাহিত জীবনের পরও প্রেম এসেছে নীরবে। তাই সংসার ছেড়ে দিতে চাইলেও প্রেম জীবন থেকে ত্যাগ করতে রাজি নন বধূ। বরং প্রেমিকের সঙ্গে একছাদের তলায় থাকতে চাই বলে ধনুক ভাঙা পণ করেছেন। আর একঘেয়ে সংসার তাঁর আর ভাল লাগছে না। কোথাও যেন একটা টানের অভাববোধ করছেন ওই বধূ। কিন্তু তাতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন গৃহবধূর বাবা-মা এবং তাঁর স্বামী। আর তাই নিজের প্রেমকে স্বীকৃতি দিতে এবং সংসার থেকে নিষ্কৃতি পেতে হস্তক্ষেপ চাইলেন বধূ পুলিশের। তাই প্রেমিকের সঙ্গে থাকতে চেয়ে নন্দীগ্রাম থানার দ্বারস্থ হলেন দুই সন্তানের মা। ১২ বছরের দাম্পত্য জীবন এখন একঘেয়ে হয়ে উঠেছে তাঁর কাছে। ফেসবুকে যুবকের সঙ্গে পরিচয় এবং তা থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তাই প্রেমিককে ছাড়া আর কাউকে ভাল লাগছে না ওই বধূর।

ওই বধূর এখন ইচ্ছে প্রেমিকের বুকে মাথা রেখে চাঁদের দিকে তাকিয়ে হাত ধরে মনের-প্রাণের কথা শেয়ার করতে। প্রেমিকের আলতো আদর যেন তাঁর জীবনে নতুন মাদকতা এনে দেবে। সংসারে সেসব আর কই। জলাধারের পাশে বসে ঠাণ্ডা হাওয়ায় আলিঙ্গনই তো জীবনে নতুন ধারা বয়ে আনবে। কিন্তু কোনও প্রেমই যে বিনা বাধায় পরিণতি লাভ করে না। এক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে। স্বামী-সংসার ছেড়ে ওই যুবকের সঙ্গেই থাকতে চান বধূ। যাতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন নিজের বাবা-মা এবং স্বামী। তাঁদের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধেই নন্দীগ্রাম থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন ওই বধূ। নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের সাউদখালি চরের বাসিন্দা ওই বধূর পাগলপারা প্রেম দেখে হতবাক পুলিশ। বাধ্য হয়ে বধূর অভিযোগের ভিত্তিতে বাবা, মা এবং স্বামীর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১২০ (২), ১১৫ (২), ৩৫১ (২) এবং ৩ (৫) ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্তের দায়িত্ব পড়েছে নন্দীগ্রাম থানার সাব ইন্সপেক্টর অর্পণ গড়াইয়ের উপর।

তবে ঘটনা এখানেই শেষ নয়, প্রেম শুধু সমাজমাধ্যমে এখন আর আটকে নেই। তা আরও মাখো মাখো হয়ে উঠেছে। কিন্তু ১২ বছর আগে ডায়মন্ডহারবারের বিশ্বজিৎ হালদারের সঙ্গে ওই বধূর বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের দু’টি মেয়ে আছে। সাংসারিক জীবনে কোনও অশান্তি ছিল না। কিন্তু ফেসবুকে ওই বধূর সঙ্গে নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের গোকুলনগরের যুবকের পরিচয় হয়। তা থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমিকের ভালবাসায় বধূ প্রেমিকা এখন প্রেমে পাগল অবস্থা। চার মাস আগে ওই বধূ গোকুলনগরে প্রেমিকের কাছে চলে আসেন। একসঙ্গে বসবাস করতে থাকেন। গত ১৫ আগস্ট ডায়মন্ডহারবার থেকে বিশ্বজিৎ স্ত্রীর খোঁজে গোকুলনগরে আসেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় স্ত্রীকে ধরে জোর করেই সাউদখালি চরে শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে গিয়ে বোঝাতে থাকেন।

কিন্তু কে শোনে কার কথা! প্রেমিককে ছেড়ে আবার নতুন করে সংসার শুরু করতে পরামর্শ দেন স্বামী বিশ্বজিৎ। কিন্তু তাতে রাজি নন বধূ। তখন ওই যুবতী বধূকে তাঁর বাবা, মা এবং স্বামী ভালমন্দ বোঝাতে থাকেন। এমনকী গ্রামে সালিশি সভাও বসে। এতকিছুর পরও বধূকে রাজি করানো যায়নি। উল্টে বাবা, মা এবং স্বামীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করেন ওই বধূ। থানা থেকে সোজা প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে বধূ বলেন, ‘আমি সাবালিকা। আমি কার সঙ্গে থাকব সেটা একান্তই আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। আমাকে জোর করে আটকে রাখা হয়েছিল। প্রেমিকের সঙ্গে থাকতে বাধা দেওয়া হয়েছে। আমি ওকে ছাড়া থাকতে পারব না।’