• facebook
  • twitter
Monday, 18 May, 2026

স্বাস্থ্যসচিবকে নবান্নে জরুরি তলব, প্রশাসনে জোর জল্পনা

বিশেষ করে আর জি কর ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে একাধিক  বিতর্ক সামনে এসেছে

রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার হাল ফেরাতে একের পর এক পদক্ষেপের মাঝেই হঠাৎ প্রশাসনিক মহলে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য। স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগমকে জরুরি তলব করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার স্বাস্থ্যভবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বৈঠক চলাকালীনই আচমকা নবান্ন থেকে তাঁকে ডেকে পাঠানো হয় বলে সূত্রের খবর। এরপর বৈঠক মাঝপথে ছেড়ে তৎক্ষণাৎ নবান্নে রওনা দেন স্বাস্থ্যসচিব।

এই আকস্মিক তলবকে ঘিরে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে আর জি কর ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে একাধিক  বিতর্ক সামনে এসেছে। ওই ঘটনার পর থেকেই স্বাস্থ্যসচিবের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠতে থাকে এবং আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকদের একাংশ তাঁর পদত্যাগের দাবি পর্যন্ত তোলেন। ফলে  বর্তমান পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে ঘিরে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

Advertisement

প্রশাসনিক সূত্রের একাংশের মতে, স্বাস্থ্য পরিষেবার সামগ্রিক মানোন্নয়ন এবং হাসপাতালগুলির পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্যই এই জরুরি বৈঠক ডাকা হতে পারে। তবে অন্য একটি অংশের মতে, বিষয়টি শুধুমাত্র প্রশাসনিক নয়, এর সঙ্গে রাজনৈতিক সমীকরণও জড়িত থাকতে পারে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঘিরে বিরোধী শিবির ক্রমাগত চাপ বাড়াচ্ছে।

Advertisement

এদিকে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে আর জি কর ধর্ষণ ও হত্যা মামলা। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তদন্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে প্রাক্তন কলকাতা পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল, তৎকালীন ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্তকে সাসপেন্ড করেছে রাজ্য সরকার। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশও  দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপকে ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে চলছে তীব্র আলোচনা।

অন্যদিকে স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম সম্প্রতি স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছেন বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি। শনিবার গভীর রাতে শহরের পাঁচটি বড় সরকারি হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে যান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বৈঠকের মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই এই পরিদর্শনকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে।

হাসপাতালগুলির পরিষেবা, জরুরি বিভাগ, রোগী পরিষেবা এবং কর্মীদের উপস্থিতি খতিয়ে দেখেন তিনি। প্রশাসনিক স্তরে এই ধরনের ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’কে সাধারণত ব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত করার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হয়। তবে এই সক্রিয়তার মধ্যেও সমালোচনার সুর থামছে না। বিরোধী শিবিরের একাংশের দাবি, প্রশাসনিক ব্যর্থতা আড়াল করতে এখন তৎপরতা দেখানো হচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য, সরকার পরিবর্তনের চাপ সামলাতে এখন স্বাস্থ্য দপ্তর ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’-এ ব্যস্ত।

সব মিলিয়ে স্বাস্থ্যসচিবকে নবান্নে জরুরি তলব করার ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে যেমন প্রশ্ন উঠেছে, তেমনই নতুন করে তীব্র হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও। কী কারণে এই তলব, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা না আসায় জল্পনা আরও বাড়ছে।

Advertisement