হৈমন্তী শুক্লা
আমার একবার সৌভাগ্য হয়েছিল আশাজির একটা বাংলা গানের রেকর্ডিংয়ে যাওয়ার। আমার গান রেকর্ড হয়ে যাওয়ার পরে আশাজি আসেন। আমি অপেক্ষা করছিলাম। তিনি এলেন। সেদিন দেখেছিলাম, খুবই সাধারণভাবে থাকতেন তিনি। তিনি যে আশা ভোঁসলে, এত বড় একজন মানুষ, সেই কথা তিনি কখনও ভাবতেনই না। আমি যখন চলে যাচ্ছিলাম, তখন তিনি আমাকে বলেছিলেন তাঁর কাছে বসতে। উনি যেখানে গাইবেন, সেখানে আমাকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি সেদিন অনেক প্রশ্ন করেছিলেন। ছবির গান মানে পরিস্থিতি বুঝে নিয়ে গাওয়া। তিনি সেদিন সেই গান নিয়ে নানা প্রশ্নও করেছিলেন। কেন গানটা গাওয়া হচ্ছে, কী পরিস্থিতিতে গাওয়া হচ্ছে– এইসব প্রশ্ন। তাঁর মতো শিল্পীদের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার ছিল।
Advertisement
আশাজি যখন যে গানই গেয়েছেন, সেই গানেই নিজেকে পাল্টে ফেলেছেন। একটা দুঃসাহসিক কথা বলছি, এই পাল্টে ফেলা হয়তো লতাজির ক্ষেত্রে এতটা ছিল না। কিন্তু আশাজি একটা আরবিক গানেও অদ্ভুতভাবে নিজের গলা দিতেন। যেন ওই দেশেরই কোনও মেয়ে গাইছেন। ইংরেজি গান হোক, ইন্ডিয়ান ক্লাসিক্যাল গান হোক, সবগানই তিনি এমনভাবে গেয়ে গিয়েছেন যে, পাকা পাকা গায়িকারাও ওভাবে গাইতে পারবে না।
Advertisement
আশা ভোঁসলের বাংলা উচ্চারণটাও অসাধারণ ছিল। মনেই হতো না যে, কোনও অবাঙ্গালী গাইছেন। বই পড়ার অভ্যাস ছিল তাঁর। এই ধরনের শিল্পীরা আর জন্মাবেন না। যুগযুগ ধরে আমরা তাঁদেরই পুজো করব। নতুন করে কোনও শিল্পী ওই পর্যায়ে যাবে না।
Advertisement



