• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 13 June, 2026

ফুটপাত দখলমুক্ত করতেই হবে, হকারদের পুনর্বাসনের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সাধারণ মানুষের হাঁটার অধিকার কোনওভাবেই খর্ব হতে দেওয়া হবে না

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

বেআইনিভাবে ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে ব্যবসা করার প্রবণতার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। একইসঙ্গে জীবিকা হারানোর আশঙ্কায় থাকা হকারদের পুনর্বাসনের আশ্বাসও দিল নবান্ন। শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সাধারণ মানুষের হাঁটার অধিকার কোনওভাবেই খর্ব হতে দেওয়া হবে না। সেই কারণে ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান চলবে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ফুটপাত জনগণের। সেখানে হাঁটার অধিকার সাধারণ মানুষের রয়েছে। সেই জায়গা জবরদখল করার অধিকার কারও নেই। কলকাতার বড় বড় রাস্তা, ফুটপাত কিংবা গুরুত্বপূর্ণ জনপথ কাউকে দিয়ে দেওয়ার অধিকার আমাকে কেউ দেয়নি। আমি জনগণের কাছে দায়বদ্ধ।’

কলকাতার নিউ মার্কেট, রাজাবাজার, খিদিরপুর, মেটিয়াবুরুজ-সহ একাধিক এলাকার নাম উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, বছরের পর বছর ধরে অনেক জায়গায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে রাস্তা দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচলই কঠিন হয়ে উঠেছে। সেই অবস্থার পরিবর্তন করতেই সরকার পদক্ষেপ করছে।

তবে কড়া অবস্থানের পাশাপাশি মানবিক দিকটিও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর আশ্বাস, যেখানে সরকারের উদ্বৃত্ত জমি বা অচল বাজার রয়েছে, সেখানে পর্যায়ক্রমে হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জবরদখল করা জায়গা থেকে সরে যান। পরে ধাপে ধাপে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। শ্রম দপ্তরের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধাও হকারদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে হাওড়া, শিয়ালদহ, যাদবপুর ও দমদম এলাকায় হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বামপন্থী দলগুলি রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছে। অন্যদিকে বহু হকার জীবিকার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, জনস্বার্থ এবং কর্মসংস্থানের মধ্যে ভারসাম্য রেখেই সরকার এগোতে চায়। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, আগামী দিনে কলকাতা এবং সংলগ্ন এলাকায় আরও বৃহত্তর দখলমুক্তকরণ অভিযান চলতে পারে। পাশাপাশি পুনর্বাসন সংক্রান্ত একটি পৃথক রূপরেখাও তৈরি করা হচ্ছে।