রাজ্যে নতুন করে আসছে ‘ক্রাইম অ্যান্ড ক্রিমিনাল ট্র্যাকিং নেটওয়ার্ক অ্যান্ড সিস্টেম’ বা সিসিটিএন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ওই পোর্টালে মিলবে বাংলার সব থানার এফআইআর কপি। এই রাজ্যে পালাবদলের পর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকাকে প্রাধান্য দিল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার।
বিজ্ঞপ্তির তারিখ থেকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে আগের যাবতীয় কাজ খুব তাড়াতাড়ি শেষ করতে ইতিমধ্যেই নির্দেশ গিয়েছে কলকাতা পুলিশের সব ডেপুটি কমিশনারের কাছে।
‘সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী, বিশেষ অভিযোগ বাদ দিয়ে বাকি সমস্ত এফআইআর সিসিটিএনএস পোর্টালে আপলোড করা বাধ্যতামূলক।’ জানিয়েছেন রাজ্য পুলিশের এক শীর্ষ কর্তা।
এতদিনে অন্যান্য রাজ্যের পুলিশ এই নির্দেশিকা অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করেছে। বাদ ছিল পশ্চিমবঙ্গ। তৃণমূল জমানায় কেন্দ্রীয় বা শীর্ষ আদালতের নির্দেশিকা মানা হয়নি বলে অভিযোগ। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরেই আইনে যা বলা হয়েছে বা সুপ্রিম কোর্টের যে নির্দেশিকা রয়েছে তা মেনেই পুলিশকে কাজ করতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্দেশ দিয়েছিলেন। এ বার তা কার্যকর করতে তৎপরতা শুরু হল।
লালবাজার সূত্রের খবর, এই নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে। বৃহস্পতিবার কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ দমন) কুনাল আগরওয়াল সমস্ত ডিভিশনের ডেপুটি কমিশনারদের এই সংক্রান্ত নির্দেশও জারি করেছেন। তবে সব মিটতে মাস খানেক সময় লাগবে বলে জানা গিয়েছে। তারপর থেকে নিয়মিত ভাবে সিসিটিএনএস পোর্টালে এফআইআর- এর নথি আপলোড করা হবে। সবাই সব দেখতে পাবেন।
সিসিটিএনএস পোর্টালে মূলত পাঁচটি ফর্ম থাকে। কোনও এফআইআর কপি আপলোড করার আগে পুলিশই সেই ফর্ম পূরণ করে।
- এফআইআর কপির জন্য
- অপরাধস্থল সংক্রান্ত তথ্যের জন্য
- ওই মামলায় কতজন গ্রেপ্তার হয়েছে
- মামলার তদন্ত চলাকালীন কী কী বস্তু বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে
- মামলার চার্জশিটের জন্য।
‘ইউথ বার অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া’র দায়ের করা একটি মামলার প্রেক্ষিতে গত ২০১৬ সালে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। তাতে বলা হয়েছিল, কেন্দ্রীয় সরকার ক্রাইম অ্যান্ড ক্রিমিনাল ট্র্যাকিং নেটওয়ার্ক অ্যান্ড সিস্টেম প্রকল্পের মাধ্যমে অনলাইনে অভিযোগ দায়েরের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সব রাজ্যকে সহায়তা করছে।
শীর্ষ আদালত নির্দেশ দেয়, প্রতিটি এফআইআর রেজিস্টার হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট রাজ্য পুলিশ তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করবে। যদি পুলিশের নিজস্ব ওয়েবসাইট না থাকে তবে রাজ্য সরকারের সরকারি ওয়েবসাইটে তা প্রকাশ করতে হবে। এর ফলে অভিযুক্ত বা অভিযোগকারী সেই কপি ডাউনলোড করে আইন অনুযায়ী আদালতে আবেদন করতে পারবেন।
ধর্ষণ, সন্ত্রাসবাদ, বিদ্রোহ, পকসো আইনের অধীনে দায়ের হওয়া এফআইআর এটা থেকে ছাড় রয়েছে। কেন এফআইআর আপলোড করা হল না, কেনই এটা ‘সংবেদনশীল’ তার ব্যাখ্যা দিতে হবে পুলিশের পদস্থ কর্তাকে। পুলিশের পদস্থ কর্তা কোনও ভাবেই ডেপুটি সুপার পদমর্যাদার আধিকারিকের নীচে হবে না। যেসব রাজ্যে শুধুমাত্র জেলাশাসকের ভূমিকা রয়েছে, সেখানে তিনিও এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। তাঁর সিদ্ধান্তের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটকে অবগত করতে হবে।
সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ ছিল, সমস্ত রাজ্যে এফআইআর কপি অনলাইনে আপলোড করার এই ব্যবস্থা ২০১৬ সালে ১৫ নভেম্বর থেকে কার্যকর করতে হবে। কয়েক বছর কেটে গেলেও শীর্ষ আদালতের নির্দেশ এ রাজ্যে কার্যকর হয়নি। বিগত কয়েক বছরে পুলিশ নিজস্ব ওয়েবসাইটে এফআইআর আপলোড করা শুরু করেছে। অভিযোগ, তা অনলাইনে প্রকাশিত হতে ৭২ ঘন্টা নয়, এক এক সময় এক সপ্তাহের বেশিও সময় লাগছে।




