সুরেন্দ্রনাথ কলেজে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে চাঞ্চল্য কাটতে না কাটতেই সামনে এল আরও বিস্ফোরক তথ্য। কলেজের ইউনিয়ন রুমে তল্লাশি চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের দাবি ঘিরে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। মুচিপাড়া থানার পুলিশের তল্লাশি অভিযানের সময়ই এই অস্ত্রের খোঁজ মিলেছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, কলেজের ইউনিয়ন রুম কি কোনও অসামাজিক কার্যকলাপ বা দুষ্কৃতীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল?
পুলিশ সূত্রে খবর, তল্লাশির সময় শুধু আগ্নেয়াস্ত্রই নয়, উদ্ধার হয়েছে কন্ডোম-সহ আরও কিছু সামগ্রী। কলেজের তিনতলায় দু’টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বেডরুমেরও সন্ধান মিলেছে। ওই ঘরগুলির সঙ্গে সংযুক্ত বাথরুমও রয়েছে। এই সমস্ত তথ্য সামনে আসতেই গোটা ঘটনায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীগুলির উৎস এবং সেগুলি কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই কলেজে পৌঁছন ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সজল ঘোষ। কলেজ ঘুরে দেখার পর তিনি তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করে তীব্র কটাক্ষ করেন। ইউনিয়ন রুম, কমন রুম-সহ বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করে তিনি বলেন, ‘এখানে যা যা পাওয়া গিয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এমন কিছু জিনিসও উদ্ধার হয়েছে, যা দেখে মনে হচ্ছে সবকিছু অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হত।’
এদিকে, ইউনিয়ন রুম থেকে বিপুল সংখ্যক অ্যাডমিট কার্ড, কলেজে ভর্তির ফর্ম এবং কন্যাশ্রী প্রকল্পের বিভিন্ন নথিও উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কলেজের ছাদ থেকে মিলেছে অসংখ্য মদের বোতল। এছাড়াও কন্ডোম উদ্ধারের ঘটনাও নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে কলেজ প্রাঙ্গণ থেকেই দু’টি ট্রলি ভর্তি টাকা উদ্ধারের খবর সামনে আসে। যদিও উদ্ধার হওয়া টাকার একটি বড় অংশ উইপোকার কারণে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল বলে জানা যায়। সেই ঘটনার রেশ কাটার আগেই এবার আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের খবর সামনে আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
শিয়ালদহ স্টেশনের কাছেই অবস্থিত শহরের অন্যতম প্রাচীন ও পরিচিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে এমন অভিযোগে শিক্ষামহলেও উদ্বেগ ছড়িয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র কার, কী উদ্দেশ্যে সেখানে রাখা হয়েছিল, কারা ওই ঘরগুলি ব্যবহার করত এবং কোনও দুষ্কৃতী চক্রের যাতায়াত ছিল কি না, সেই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। আগামী দিনে তদন্তে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।




